পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের আমূল সংস্কারে ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

সিরাজগঞ্জ, ১৩ মে – নিরাপদ ও দ্রুত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার মান বাড়াতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম ধাপ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা যার পুরো অর্থই সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প ২০৩১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।
এগুলো হলো,
- নির্ধারিত গতিতে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা এবং
- যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার মান উন্নয়ন এবং
- রেল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল নেটওয়ার্কে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডোর।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য এস এম শাকিল আখতার বলেন যে পশ্চিমাঞ্চলের রেললাইন আধুনিকায়ন এবং পুনর্বাসনে এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি আরও জানান যে রেলওয়েতে ইঞ্জিন ও কোচের সংকট থাকায় বাড়তি চাহিদা মেটাতে নতুন লোকোমোটিভ ও মালবাহী বগি সংগ্রহের জন্য আলাদা প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের বড় অংশ ১৯৩০ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে স্থাপিত পুরোনো রেললাইন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বেশ কিছু অংশে রেললাইনের ক্ষয়ের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে এবং প্রায় ৩০ শতাংশ স্লিপার অকেজো হয়ে পড়েছে। এতে রেললাইনে ফাটল ও লাইন ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল।
এই প্রকল্পের আওতায় ভবানীপুর থেকে এমজিএমসিএল পর্যন্ত ২১.৪৯২ কিলোমিটার রেলপথের পুনর্বাসন করা হবে এবং ৫০০.২ কিলোমিটার রেললাইনে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ১১টি জেলায় এই প্রকল্পের কার্যক্রম বিস্তৃত থাকবে। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেলভিত্তিক পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
এস এম/ ১৩ মে ২০২৬









