শিক্ষা

বদলে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাবর্ষ! ডিসেম্বরের মধ্যেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা

ঢাকা , ১২ মে – বাংলাদেশের প্রচলিত একাডেমিক ক্যালেন্ডারে আসতে যাচ্ছে এক আমূল পরিবর্তন। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে অকারণে হারিয়ে যাওয়া ১২ থেকে ১৩ মাস সময় বাঁচাতে এবং সেশনজটমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আর পিছিয়ে নয়, বরং বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরেই শেষ করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এই বড় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করতে আগামীকাল বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে এই সভায় উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। সারা দেশের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনরা এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তাঁদের মতামত দেবেন।

বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এলোমেলো থাকায় শিক্ষার্থীরা বড় ধরণের সেশন গ্যাপের মুখে পড়ে। এসএসসির ফল প্রকাশ ও একাদশে ভর্তি হতে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত সময় লেগে যায়। একইভাবে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করতেও বাড়তি সময় নষ্ট হয়। সরকার চায় ডিসেম্বরকে ‘পরীক্ষার মাস’ হিসেবে নির্ধারণ করতে। যাতে জানুয়ারিতেই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করা যায় এবং ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা কোনো বিরতি ছাড়াই পরবর্তী স্তরে ভর্তি হতে পারে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সিলেবাস, ক্লাস টেস্ট এবং বোর্ড পরীক্ষা—সবই ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। বোর্ডগুলোকে দ্রুততম সময়ে ফল দিয়ে জানুয়ারিতেই পরবর্তী ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা যেন ঠিক ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে সেশনজট ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।

“আমরা যদি ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিতে পারি, তবে অহেতুক সময় অপচয় বন্ধ হবে এবং শিক্ষার্থীরা দুই বছরের মধ্যেই তাদের কারিকুলাম সম্পন্ন করতে পারবে।” — শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

দীর্ঘদিনের এই পুরনো পদ্ধতি পরিবর্তন করা যেমন জরুরি, তেমনি জটিলও বটে। বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে যদি এই নতুন ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনএন/ ১২ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language