লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত! প্রবাসীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জরুরি নির্দেশ

ঢাকা, ১২ মে – মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার প্রাণ হারালেন দুই প্রবাসী বাংলাদেশি। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ সরকার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশিকে ঘরবাড়ি ছেড়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস।
মঙ্গলবার (১২ মে) দূতাবাসের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিশেষ সতর্কবার্তায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচটি ডিস্ট্রিক্টে অবস্থানকারী প্রবাসীদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগের অনুরোধ করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো:
১. নাবাতিয়ে, ২. ছুর, ৩. বিনতে জেবইল, ৪. মারজায়ুন এবং ৫. সাঈদা।
দূতাবাস জানিয়েছে, এসব ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে থাকা বাংলাদেশিরা যেন কোনোভাবেই সেখানে অবস্থান না করেন।
লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন যেকোনো সামরিক বা সন্দেহভাজন স্থাপনা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে— যেসব স্থানে আপনাদের কফিল (মালিক), স্পন্সর বা তাঁদের পরিবারের লোকজন অবস্থান করছেন না, সেসব স্থান আপনাদের জন্যও নিরাপদ নয়। অনতিবিলম্বে সেই জায়গাগুলো ত্যাগ করুন।
সোমবার (১১ মে) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী প্রাণ হারান। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ প্রবাসীদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত অস্থির। ড্রোন হামলা এবং পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির কারণে যে কোনো সময় পরিস্থিতি বড় ধরণের যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। এমতাবস্থায় প্রবাসীদের জীবন রক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
“আপনার জীবন আপনার পরিবারের কাছে মূল্যবান। দূতাবাসের নির্দেশনা মেনে অবিলম্বে নিরাপদ এলাকায় চলে যান।” — বৈরুত দূতাবাস।
এনএন/ ১২ মে ২০২৬









