মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের সমরকৌশল নির্ধারণে সক্রিয় মোজতবা খামেনি, দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের

তেহরান, ৯ মে – ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে না এলেও দেশটির সমরকৌশল ও যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত নিরসনের কৌশল নির্ধারণে মোজতবা খামেনি সরাসরি সহায়তা করছেন। তবে দেশটির বর্তমান খণ্ডিত ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আসলে কার হাতে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই সময় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। এরপর দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে তাকে দেখা না যাওয়ায় তার স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তার শরীরে দগ্ধ হওয়ার গুরুতর চিহ্ন রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি কোনো ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন না। পরিবর্তে সরাসরি সাক্ষাৎ বা বিশেষ দূতের মাধ্যমে বার্তা আদান প্রদান করছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি অবশ্য এই খবর অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তার ভাষ্যমতে, হামলায় তার পা ও কোমরে সামান্য আঘাত লেগেছিল যা বর্তমানে দ্রুত সেরে উঠছে।

সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানিয়েছেন যে তিনি মোজতবা খামেনির সঙ্গে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই কোনো শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে তার প্রথম প্রকাশ্য বৈঠকের তথ্য।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ব্যাপক হামলার মুখেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইরানের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো সচল রয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মনে করেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব অত্যন্ত অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ বিভক্তিই সম্ভবত যুদ্ধবিরতি বা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনি নীতিনির্ধারণী ভূমিকা রাখলেও দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে বর্তমানে আইআরজিসি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বেশি সক্রিয় রয়েছেন।

এনএন/ ৯ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language