জাতীয়

রাজারবাগে কাল শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬

ঢাকা, ৯ মে – ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই দীপ্ত প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আগামীকাল রবিবার (১০ মে) থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হচ্ছে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’। চার দিনব্যাপী (১০-১৩ মে) এই আয়োজনে পুলিশের পেশাদারিত্বের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।

রবিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে এই সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুশৃঙ্খল প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করবেন।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন এবং ‘মানবিক রাষ্ট্র’ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। বাণীতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ঘরে-বাইরে জননিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাইবার অপরাধ এবং আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে পুলিশকে দক্ষ করে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি এআই (AI), ডেটা অ্যানালিটিকস এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশকে ‘আস্থার প্রতীক’ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশ পদক (BPM) এবং রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (PPM) প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে মনোনীতদের পদক পরিয়ে দেবেন। এবারের প্যারেডে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, পুলিশকে আরও জনবান্ধব ও গতিশীল করতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এবারের পুলিশ সপ্তাহে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ‘মব ভায়োলেন্স’, কিশোর গ্যাং এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নতুন কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

এক নজরে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর কর্মসূচি:

  • ১০ মে: বার্ষিক পুলিশ প্যারেড, ভাষণ এবং পদক প্রদান।
  • কল্যাণ প্যারেড: পুলিশ সদস্যদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি মতবিনিময়।
  • সম্মেলন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সাথে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ বৈঠক।
  • পুরস্কার বিতরণ: অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে শিল্ড ও আইজি’জ ব্যাজ প্রদান।
  • ১৩ মে: চার দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর প্রথম পুলিশ সপ্তাহ হওয়ায় এর গুরুত্ব বহুগুণ বেশি। জনমনে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি পেশাদার বাহিনী গড়ার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে তুলে ধরেছেন, মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন কতটুকু ঘটে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশেষ করে ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ জোরদার এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার যে অঙ্গীকার আইজিপি করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব অনেকটাই ঘুচবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ইতিমধ্যে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে এবং জাতীয় সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের মাধ্যমে এই দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে।

এনএন/ ৯ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language