পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোই আমাদের বড় লক্ষ্য: পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

ঢাকা, ৯ মে – দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের অধীনে প্রথম ‘জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ’ শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার (১০ মে)। এই বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার (৯ মে) এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, একটি স্বনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে পুলিশের সংস্কার এবং পেশাদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে গত ১৫ বছরের ‘গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “জনগণ এখন এমন একটি সমাজ দেখতে চায় যেখানে জানমালের ভয় থাকবে না এবং অবিচার-নিপীড়নের অবসান ঘটবে।” তার মতে, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সাফল্য নির্ভর করে জনমনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার ওপর। আর এই প্রত্যাশিত পরিবেশ বজায় রাখার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এই বাহিনী যে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে সক্ষম, তা প্রমাণিত হয়েছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশের আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সরকার এখন ‘জননিরাপত্তার অপরিহার্য বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে উঠে আসা প্রধান ৫টি অগ্রাধিকার:
১. আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক: জনগণের সাথে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করা।
২. মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাং দমন: বর্তমান সময়ের আলোচিত ‘মব জাস্টিস’ এবং কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
৩. মাদকের বিস্তার রোধ: তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় মাদক নির্মূলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৪. মানবিক রাষ্ট্র গঠন: পুলিশ বাহিনীকে কেবল একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে নয়, বরং মানবিক রাষ্ট্র গঠনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা।
৫. আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অর্জিত গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই পুলিশ সপ্তাহটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এর প্রধান কারণগুলো হলো:
- নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ক্ষমতা হস্তান্তরের পর পুলিশের ইমেজ সংকটের যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার এটিই প্রথম বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন।
- সংস্কারের বার্তা: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘পেশাদারিত্ব’ এবং ‘নির্দলীয়’ ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা পুলিশের আমূল সংস্কারের একটি ইঙ্গিত দেয়।
- স্থিতিশীলতা: দ্রব্যমূল্য ও সামাজিক অস্থিরতার এই সময়ে অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সরকারের নীতিনির্ধারকদের ধারাবাহিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মব সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষে একটি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “পুলিশ সপ্তাহ হয়ে উঠুক নিজেদেরকে জনগণের বিশ্বস্ত করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পূরণের একটি মুহূর্ত।”
এনএন/ ৯ মে ২০২৬









