সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত: জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা

ঢাকা, ৯ মে – ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহতের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ শনিবার (৯ মে) এক শোকাতুর বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘অন্যায় ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৮ মে) রাতে কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর সীমান্তের বাতেনবাড়ি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুরসালিন (১৮), যিনি ধজনগর গ্রামের বাসিন্দা। অন্যজন একই ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের অতর্কিত গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও একজন সাধারণ যুবকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ভারত বারবার দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। উল্টো দিন দিন এই লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।”
বিবৃতিতে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনটি মূল দিক তুলে ধরেন:
১. প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: বিএসএফ ও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সীমান্ত হত্যা বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।
২. বিচারের অভাব: সীমান্তে সংঘটিত পূর্ববর্তী হত্যাকাণ্ডগুলোর কোনো সুষ্ঠু বিচার বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বিএসএফ সদস্যরা বারবার গুলি চালাতে দ্বিধা করছে না।
৩. পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতা: গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকারের “দুর্বল ও নতজানু” পররাষ্ট্রনীতির কারণেই ভারত সীমান্ত হত্যা বন্ধে প্রয়োজনীয় চাপ অনুভব করছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। যেখানে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দাবি করা হয়, সেখানে নিয়মিত বিরতিতে এমন প্রাণহানি সেই সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বন্ধুসুলভ আচরণ প্রত্যাশা করে, বুলেট নয়।” তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। একই সাথে দোষী বিএসএফ সদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও জোর দাবি জানানো হয়েছে।
কসবা সীমান্তের এই ঘটনা পুনরায় প্রমাণ করল যে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনার টেবিলের প্রতিশ্রুতি আর সীমান্তের বাস্তবতার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে।
এনএন/ ৯ মে ২০২৬









