ফেনী

ফেনীতে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি: সচেতনতা ও উন্নত চিকিৎসার অভাব

ফেনী, ৯ মে – ভারত সীমান্তবর্তী জেলা ফেনীতে এইচআইভি ও এইডস সংক্রমণের হার নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সীমান্ত এলাকায় মানুষের যাতায়াত বেশি এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিকের উপস্থিতির ফলে এ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জেলায় এইচআইভি শনাক্তকরণ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

জাতীয় পর্যায়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বর্তমানে অনুমিত এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৩১৩ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ এখনো শনাক্তকরণের বাইরে থাকায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফেনীর মতো জেলাগুলোতে সামাজিক কুসংস্কার এবং সচেতনতার অভাব শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবায়াত বিন করিম জানিয়েছেন যে সঠিক সময়ে শনাক্ত করা গেলে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তিনি সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে ফেনীতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দেন। ফেনী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল উল্লেখ করেন যে অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে পরীক্ষা করাতে চান না অথবা ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

ফলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিষয়টিতে সঠিক তথ্যের অভাবকে দায়ী করেছেন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের দাবি জানিয়েছেন তারা। সামাজিক অবক্ষয়, অনিরাপদ যৌন আচরণ ও মাদকাসক্তির পাশাপাশি এইচআইভি আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক নেতিবাচক মনোভাব পরিবর্তন করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চাকরি হারানোর ভীতিও শনাক্তকরণের পথে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

এস এম/ ৯ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language