ফুটবল

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইস্যুতে ফিফা সভাপতির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা

গাজা, ৭ মে – আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার ৭৬তম কংগ্রেসে এক বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজউব এবং ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি বাসিম শেখ সুলেমানকে করমর্দন করানোর চেষ্টা করেন। তবে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি জিবরিল রাজউব তা প্রত্যাখ্যান করলে ইনফান্তিনো বিষয়টিকে জটিল বলে মন্তব্য করেন এবং শিশুদের ভবিষ্যতের দোহাই দিয়ে এক হওয়ার আহ্বান জানান।

ফিফার এই ধরনের ভূমিকা নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের সময় সংস্থাটি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বস্তি উচ্ছেদ কিংবা ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার শাসনকালে ফিফার নীরবতা এর বড় প্রমাণ। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সেই বিশ্বকাপের সময় স্টেডিয়ামের খুব কাছেই চলত নির্যাতন ও গুমের মতো ভয়াবহ কর্মকাণ্ড।

গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতেও ফিফার অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের মুখে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা সহিংসতার পরও ফিফা দেশটিকে নিষিদ্ধ করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো ইনফান্তিনো এই সংকটকে জটিল বিষয় হিসেবে অভিহিত করে প্রকারান্তরে ইসরায়েলের পক্ষে প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও সামরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে গণহত্যার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতির ইসরায়েলি ক্লাবগুলোকে খেলার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধে সহায়তার অভিযোগে ইনফান্তিনো এবং উয়েফা প্রধান আলেকজান্ডার সেফেরিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি ফিফা ও উয়েফা রাজনৈতিক প্রভাবে এই সিদ্ধান্ত বজায় রাখছে। ফুটবল আজ আর শুধু একটি খেলা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই।

এটি দুর্নীতি এবং স্বৈরশাসনের সাথে সহযোগিতার গন্ধে কলুষিত হয়ে পড়ছে। কূটনীতির মাধ্যমে ইনফান্তিনো তার অবস্থান রক্ষার চেষ্টা করলেও গাজার রক্তাক্ত পরিস্থিতি তার এই অপকৌশলকে বারবার প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে। ফুটবল যেন আজ শোষকের সহযোগী হয়ে দাঁড়িয়েছে আর ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের সেই অন্যায়ের সাথে সমঝোতার জন্য বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এস এম/ ৭ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language