“মমতা পদত্যাগ না করলে বরখাস্ত করা হবে”—হিমন্ত শর্মার কড়া হুঁশিয়ারিতে তপ্ত বাংলার রাজনীতি!

কলকাতা, ৫ মে – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভারতে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম -কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন আসামের বিজেপি দলীয় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পদত্যাগ না করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরখাস্ত করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
সংবাদমাধ্যমটির এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে তাঁকে বরখাস্ত করা হবে। রাজ্যপাল নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন এবং এরপর আইনি পদক্ষেপ নেবেন। বিষয়টি অত্যন্ত সহজ। দেশ কারো ব্যক্তিগত খেয়ালখুশিতে চলে না।”
আসন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে হিমন্ত আরও যোগ করেন, নির্বাচনে হারলে এমন অভিযোগ তোলা ভিত্তিহীন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কি আমি বলব কংগ্রেস যে ১৯টি আসন জিতেছে, সেগুলো আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে?”
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মমতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁকে অনেকদিন সহ্য করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বাধা দিয়েছেন এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির ভিত্তিহীন দাবি তুলছেন। অথচ ভোটার তালিকার সংশোধন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হয়েছে এবং আদালত কমিশনকে সঠিক বলে রায় দিয়েছে।
সোমবার ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে নেমে এলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। পদত্যাগপত্রও জমা দেব না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে অথবা রাজ্যপালের মাধ্যমে বরখাস্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে রাজ্যপাল তাঁকে সরিয়ে নতুন দল বা জোটকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
আগামী ৪৮ ঘণ্টা বাংলার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি ৭ মে-র আগে মমতা পদত্যাগ না করেন এবং বিজেপি সরকার গঠনের দাবি জানায়, তবে রাজ্যপাল সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
এনএন/ ৫ মে ২০২৬









