মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধস

তেহরান, ৭ মে – দীর্ঘদিন ধরে চলা ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। গত কয়েক মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে আজ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্যমতে, যুদ্ধের মেঘ কাটতে শুরু করায় বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।
সম্ভাব্য চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তেলের বাজারে বড় ধরনের কারেকশন লক্ষ্য করা গেছে। ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড, আন্তর্জাতিক এই বেঞ্চমার্কে তেলের দাম ৫.১% কমে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI), যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাজারে তেলের দাম ৫.৫% কমে প্রতি ব্যারেল ৮৯.৮৭ ডলারে নেমে এসেছে।
এক্সিওস-এর প্রতিবেদন প্রকাশের আগে যা ছিল ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার, তা মুহূর্তেই ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যাচ্ছে যার মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। এই সমঝোতার অধীনে ৩০ দিনের একটি ‘উইন্ডো’ বা সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
এই সময়ের মধ্যে মূলত চারটি প্রধান বিষয়ে আলোচনা হবে:
- ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ।
- ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
- বিদেশে জব্দ করা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া।
- বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ পার হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকটে পড়েছিল, যার ফলে হু হু করে বেড়েছিল দাম।
এদিকে, চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক মেজাজ কমেনি। তিনি একদিকে চুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, অন্যদিকে ইরানকে কড়া ভাষায় হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইরান যদি শর্ত অনুযায়ী সমঝোতায় না আসে, তবে আবারও বোমাবর্ষণ শুরু হবে।”
এনএন/ ৭ মে ২০২৬









