যুদ্ধের প্রভাবে ইরাকের ধর্মীয় পর্যটনে ধস: নাজাফ ও কারবালায় হাহাকার

বাগদাদ, ৪ মে – ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহর বর্তমানে এক গভীর নিস্তব্ধতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাবে এই পবিত্র শহরগুলোতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। একসময় ইরান, লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকত মাজার সংলগ্ন প্রাঙ্গণগুলো।
তবে বর্তমান সংঘাতের কারণে সেখানে এখন শুধুই শূন্যতা বিরাজ করছে। ধর্মীয় পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতিতে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন। নাজাফের পুরোনো বাজারের গহনা বিক্রেতা আবদেল রহিম হারমুশ জানান, আগে বিদেশি দর্শনার্থীদের ভিড়ে বাজারে চলাফেরা করাই কঠিন ছিল।
এখন ক্রেতা না থাকায় ট্যাক্সি চালক থেকে শুরু করে হোটেল ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত বেকার হয়ে পড়ছেন। নাজাফের হোটেল সমিতির দেওয়া তথ্যমতে, শহরের ২৫০টি হোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশই বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দুই হাজারেরও বেশি কর্মচারী তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। নাজাফ থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কারবালা শহরের চিত্রও একই রকম।
যুদ্ধের কারণে সেখানে পর্যটকের আগমন প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। কারবালার পর্যটন কমিটির প্রধান ইসরা আল-নাসরাভি এই পরিস্থিতিকে একটি বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মূলত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাত ও আকাশপথের অস্থিরতার কারণে ইরান এবং লেবানন থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর আকাশসীমা খুলে দেওয়া হলেও সাধারণ দিনগুলোতে মাজার চত্বর প্রায় জনশূন্য থাকছে। ইরাকের তেল বহির্ভূত আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো এই ধর্মীয় পর্যটন খাত। কোভিড পরবর্তী সময়ে এই খাতটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও বর্তমান যুদ্ধাবস্থা আবারও স্থানীয় অর্থনীতিকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এস এম/ ৪ মে ২০২৬









