সিলেটে আগাম বন্যার আশঙ্কা: হাওরের ফসল রক্ষায় ধান কিনবে সরকার

সিলেট, ৩০ এপ্রিল – টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। এতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে সুনামগঞ্জের হাওরগুলো। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে যে আগামী ৪ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মাঠের ফসল নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই পাহাড়ি ঢল বোরো ফসল হানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার আগামী ৩ মে থেকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কেনার জন্য ইতোমধ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে এবং মৌলভীবাজারের কিছু নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। হাওড়াঞ্চলের হাজার কোটি টাকার আধাপাকা বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেটের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ মে থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানান, সিলেটে এ বছর ৮৮ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলের প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাকি ফসল দ্রুত ঘরে তুলতে এবং কৃষকের ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এস এম/ ৩০ এপ্রিল ২০২৬









