উত্তর আমেরিকা

মার্কিন পাসপোর্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি, স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপনে বড় পদক্ষেপ

ওয়াশিংটন, ২৯ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এই বিশেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী গ্রীষ্মকাল থেকে বাজারে আসছে একটি সীমিত সংস্করণের পাসপোর্ট। যার ভেতরের প্রচ্ছদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বড় আকারের ছবি প্রদর্শিত হবে। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশটির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে এই বিশেষ পাসপোর্টের কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরেন।

তিনি জানান যে নতুন এই পাসপোর্টে আধুনিক চিত্র প্রযুক্তি এবং উন্নত নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। পাসপোর্টের ভেতরের কভারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতির চারপাশে মার্কিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিশেষ অংশ এবং জাতীয় পতাকার নকশা স্থান পাবে। এ ছাড়া ছবির নিচেই সোনালি অক্ষরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর যুক্ত করা হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গেছে এই উদ্যোগটি বর্তমান প্রশাসনের আমেরিকা ২৫০ কর্মসূচির একটি অংশ। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীকে ঘিরে আরও বেশ কিছু বৈচিত্র্যময় আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ওয়াশিংটনের জাতীয় প্রাঙ্গণে গাড়ি প্রতিযোগিতা এবং হোয়াইট হাউসের লনে বিশেষ কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন।

তবে সরকারি দলিলে একজন বর্তমান নেতার ছবি ব্যবহারের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না সমালোচকরা। তাদের মতে রাষ্ট্রীয় নথিতে নেতার প্রতিকৃতি ব্যবহারের এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির এক নতুন উদাহরণ। এর আগেও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা এবং নথিতে ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করার বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি কৃষি বিভাগের একটি কার্যালয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবির পাশে ট্রাম্পের ছবি স্থাপন করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। শুধু তাই নয় ২০২৬ সালের জাতীয় উদ্যান পাসেও প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসব ঘটনায় বিভিন্ন মহলে এরই মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে রাজধানী ওয়াশিংটনে ২৫০ ফুট উঁচু একটি স্বর্ণালী বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা। প্রশাসনিকভাবে এই স্থাপনাটির নামকরণ করা হয়েছে ট্রাম্প বিজয় তোরণ। দাবি করা হচ্ছে যে এটি উচ্চতায় দেশটির ক্যাপিটল ভবন এবং ঐতিহাসিক লিংকন স্মৃতিসৌধকেও ছাড়িয়ে যাবে। সমালোচকরা মনে করছেন এই ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করার একটি সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টা। যদিও প্রশাসনের দাবি স্বাধীনতার এই ঐতিহাসিক সময়কে সাধারণ মানুষের কাছে স্মরণীয় করে রাখতেই এমন বড় পরিসরে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।

এস এম/ ২৯ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language