জাতীয়

সংসদ অধিবেশনে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে হট্টগোল, শৃঙ্খলা ফেরাতে স্পিকারের হুঁশিয়ারি

ঢাকা, ২৮ এপ্রিল – জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের কিশোরগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে ফজলুর রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন দফায় দফায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফজলুর রহমান তার প্রতি করা ব্যক্তিগত মন্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে বিরোধী দলের সদস্যরা তাকে অসম্মানজনক নামে সম্বোধন করছেন। তিনি নিজের বয়সের উল্লেখ করে বলেন যে তার বয়স ৭৮ বছর এবং তিনি বিরোধী নেতার চেয়ে ১০ বছরের বড় হওয়া সত্ত্বেও তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। এ পর্যায়ে স্পিকার তাকে এমন বক্তব্য এড়িয়ে চলতে বললেও তিনি তার দাবিতে অনড় থাকেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হয়ে জামায়াত করা একটি দ্বিমুখী অপরাধ। তার এই মন্তব্যের পরপরই সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও শোরগোল শুরু হয়। স্পিকার তখন সংসদীয় রীতিনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন যে এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এবং সংসদ বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হলে এর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।

পরবর্তীতে ফজলুর রহমান ১৯৭১ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার স্মৃতিচারণ করেন এবং যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাবের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানান। এছাড়াও তিনি ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

এস এম/ ২৮ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language