ইউরোপ

যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমান বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

লন্ডন, ২৬ এপ্রিল – যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমান বাহিনীর ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার ভোরের দিকে এই অগ্নিকাণ্ড শুরু হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে যে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত একটি ভবন থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন, তখন ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর কোনো উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘাঁটির একটি পুরনো ও পরিত্যক্ত ভবন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনীর সরঞ্জামাদির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

গ্লুচেস্টারশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে ওই বাণিজ্যিক ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ধোঁয়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের জানালা ও দরজা বন্ধ রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গত মার্চ মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহারের অনুমতি দেন। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বোমারু বিমানগুলো এখানে মোতায়েন করা হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি ১৯৪৪ সালে ডি ডে আক্রমণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। এটি ইউরোপের অন্যতম একটি ঘাঁটি যেখানে আমেরিকার বি ১ ল্যান্সার, বি ২ স্পিরিট এবং বি ৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেসের মতো দূরপাল্লার শক্তিশালী বিমানগুলো রাখা সম্ভব।

এর আগে ১৯৮৬ সালে লিবিয়ায় হামলার সময়ও এই ঘাঁটিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। মার্কিন বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এনএন/ ২৬ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language