চেরনোবিলের আকাশপথে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন চলাচল: পারমাণবিক দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কিয়েভ, ২২ এপ্রিল – ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর জেনারেল রুসলান ক্রাভচেঙ্কো অভিযোগ করেছেন যে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার জন্য চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আকাশপথকে নিয়মিত ব্যবহার করছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে এই ধরনের সামরিক তৎপরতা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। চেরনোবিল বিপর্যয়ের ৪০তম বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি চলাকালীন এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে রুশ বাহিনীর ছোড়া হাইপারসনিক কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায়ই চেরনোবিল এবং পশ্চিম ইউক্রেনের খমেলনিটস্কি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অত্যন্ত নিকট দিয়ে উড়ে যাচ্ছে।
প্রসিকিউটর জেনারেলের তথ্যানুযায়ী এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫টি কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র এই কেন্দ্রগুলোর ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। কিয়েভের দাবি এই বিপজ্জনক উড্ডয়ন কোনো সামরিক কৌশল নয় বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। ক্রাভচেঙ্কো আরও জানিয়েছেন যে অন্তত তিনটি কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র খমেলনিটস্কি পারমাণবিক কেন্দ্রের মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়েছে। উদ্ধারকৃত ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে এগুলো ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ভূপাতিত হয়নি বরং কারিগরি ত্রুটির কারণে সরাসরি মাটিতে আছড়ে পড়েছে।
পারমাণবিক কেন্দ্রের এত কাছে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পতন যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারতো। যুদ্ধের শুরুতেই চেরনোবিল কেন্দ্রটি এক মাসেরও বেশি সময় রাশিয়ার দখলে ছিল। রুশ সেনারা পিছু হটলেও ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে চেরনোবিল তেজস্ক্রিয়তা নিরোধক ঢালের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ৯২টি রুশ ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই ড্রোনগুলোর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৮৬ সালের বিস্ফোরণের পর চতুর্থ রিয়্যাক্টরটি ঢেকে রাখার জন্য যে বিশেষ সুরক্ষা কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল সেটিও এখন হুমকির মুখে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার একটি দূরপাল্লার ড্রোন এই সুরক্ষা কাঠামোতে সরাসরি আঘাত হানে। ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের মতে এই সুরক্ষা কাঠামো মেরামত করতে প্রায় ৫০ কোটি ইউরোরও বেশি খরচ হতে পারে। যদি আগামী চার বছরের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন না করা হয় তবে কাঠামোটিতে জং ধরতে শুরু করবে এবং পুনরায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। রাশিয়া অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে তারা কেবল সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছে এই সামরিক তৎপরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এস এম/ ২২ এপ্রিল ২০২৬









