দেশে দুই দশকে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়ালো

ঢাকা, ১৮ জুন – দেশে দীর্ঘ দুই দশক পর হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে শনাক্ত ও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৭৭৩ জনের দেহে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া আরও ৮৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে এই রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭৭ জনে। এর মধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ১ হাজার ৯ জন সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় এ পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৭৪ হাজার ১৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন। চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ লক্ষ্য করা গেলেও ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য ও পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে ২০০৫ সালে বাংলাদেশে ২৫ হাজারের বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে সন্দেহজনক রোগীদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭৩ জনে। এছাড়া ল্যাবে শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। সব মিলিয়ে চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬৬ জন।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগ। এখানে মোট ২৯৭ জন মারা গেছেন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৯ জন সিলেটে ৭৫ জন চট্টগ্রামে ৫৮ জন বরিশালে ৫৭ জন ময়মনসিংহে ৫৫ জন খুলনায় ২৭ জন এবং রংপুরে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এনএন/ ১৮ জুন ২০২৬









