জাতীয়

এমপিদের ঋণখেলাপি বলা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের তীব্র বিতর্ক

ঢাকা, ১৮ জুন – জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি বলা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন দলের সদস্যরা পাল্টাপাল্টি যুক্তি উপস্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

আলোচনার একপর্যায়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান দেশে মোট মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য অনাদায়ী অর্থ যোগ করলে তা ১১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি টিআইবির তথ্য উল্লেখ করে দাবি করেন যে সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যাংকগুলোর পাওনা প্রায় ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন বলেন সংসদ সদস্যদের ঢালাওভাবে ঋণখেলাপি বলা অসম্মানজনক। তিনি দাবি করেন বর্তমান সংসদ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

এরপর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন সংসদে অনেক ঋণখেলাপি সদস্য রয়েছেন এবং ব্যাংকগুলো তাদের কারণেই সংকটে পড়ছে। বিতর্কের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি সংসদ সদস্য হতে পারেন না। তিনি উল্লেখ করেন যে কেউ ব্যবসায়িক কারণে ঋণগ্রস্ত হতে পারেন কিন্তু তাদের ঋণখেলাপি বলা মানহানিকর।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রুমিন ফারহানা আবারও ফ্লোর নিয়ে বলেন নির্বাচনের আগে সামান্য টাকা জমা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করা এবং উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নেওয়ার কৌশল সম্পর্কে সবাই অবগত। আইনজীবী হিসেবে তিনি এই আইনি ফাঁকফোকরগুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।

এনএন/ ১৮ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language