পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি ডলারের ড্রোন বিধ্বস্ত

তেহরান, ১৫ এপ্রিল – পারস্য উপসাগরে রুটিন নজরদারি চালানোর সময় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে।গত ৯ এপ্রিল এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে সম্প্রতি মার্কিন নৌবাহিনীর নাভাল সেফটি কমান্ডের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং দক্ষ নজরদারি সরঞ্জাম হিসেবে পরিচিত। ড্রোনটি দিন ও রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহে সক্ষম হওয়ায় একে অনেক সময় ডানাযুক্ত উপগ্রহ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
নর্থরোপ গ্রুম্যান কোম্পানির তৈরি এই ড্রোনটি সংগ্রহ করতে মার্কিন প্রশাসনের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ কোটি ৮১ লাখ ডলার। নাভাল সেফটি কমান্ড এই দুর্ঘটনাকে ক্লাস এ মিসহ্যাপ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী বিধ্বস্ত ড্রোনটি মূলত ইতালির সিসিলি দ্বীপে অবস্থিত সিগোনেল্লা নাভাল এয়ার স্টেশনের সম্পদ ছিল। দুর্ঘটনার দিন এটি হরমুজ প্রণালিতে তিন ঘণ্টার রুটিন নজরদারি করার জন্য উড্ডয়ন করেছিল। নজরদারি শেষে ফেরার পথে ড্রোনটি হঠাৎ জরুরি বিপদ সংকেত পাঠাতে শুরু করে এবং এরপরই সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিরক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ওয়ার জোন জানিয়েছে ড্রোনটি ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে হঠাৎ করে ১০ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। ড্রোনটি কোনো প্রতিপক্ষের হামলায় ধ্বংস হয়েছে কি না সে বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনী বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
তবে এই দুর্ঘটনার সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র দুই দিন পরই এই ঘটনা ঘটে।
এনএন/ ১৫ এপ্রিল ২০২৬









