অপরিশোধিত তেলের সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ

চট্টগ্রাম, ১৪ এপ্রিল – দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটের কারণে তাদের পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
সোমবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে রিফাইনারির ক্রুড প্রসেসিং ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে এই বন্ধকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ক্রুড প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ থাকলেও এলপি গ্যাস, পেট্রোল এবং বিটুমিন উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। পুরো শোধনাগারের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গত প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দেশে সর্বশেষ ক্রুড অয়েলের চালান এসেছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে। আশা করা হচ্ছে, মে মাসের শুরুতে নতুন চালান দেশে পৌঁছাবে।
তবে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে যে, সরাসরি আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় দেশের সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
এর আগে কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার টন এবং শোধনাগারের ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন সচল রাখা হয়েছিল। কিন্তু এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে মূল মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার পর এসব বিকল্প উৎস দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই মজুতও ফুরিয়ে যাওয়ায় পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। বাকি চাহিদা পূরণে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়।
এনএন/ ১৪ এপ্রিল ২০২৬









