১৬ বছর পর বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল – দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে আবারও শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার ১৫ এপ্রিল থেকে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ১০টা থেকে দেশের ৬১টি জেলার সব কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। তবে পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় পরীক্ষা শুরু হবে দুই দিন পর। প্রথম দিনে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে অধিদপ্তর। তবে এবার ঠিক কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
সূত্র জানিয়েছে ২০২৫ সালে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে পরীক্ষার রুটিন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠায় নির্ধারিত ওএমআর অংশে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো কিছু লেখা যাবে না। উত্তরপত্রে অবশ্যই ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। উত্তরপত্রের ভেতর বা বাইরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছু লেখা যাবে না।
খসড়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না। প্রদত্ত উত্তরপত্রে খসড়ার কাজ করে তা পরে যথাযথভাবে কেটে দিতে হবে। প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, নিজ দেহ বা অন্য কোথাও পরীক্ষার্থী কোনো কিছু লিখতে পারবে না।
প্রশ্নপত্র বিতরণের পর এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলের বাইরে যেতে পারবে না। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে হবে।
পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধিতে বলা হয়েছে পরীক্ষার হলে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না। প্রশ্নপত্র ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র বা অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা যাবে না। উত্তরপত্র পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা বিনষ্ট করা যাবে না।
প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে।
পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পরীক্ষা শুরু হবে ১৭ এপ্রিল। এসব জেলায় ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় একই থাকবে।
প্রাথমিক বৃত্তি নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। মেধাতালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
সর্বশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা হয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা পিইসি শুরু হওয়ায় আলাদা বৃত্তি পরীক্ষা ১৬ বছর বন্ধ ছিল।
এনএন/ ১৪ এপ্রিল ২০২৬









