ইরানের বন্দর অবরোধের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সৌদির চাপ

রিয়াদ, ১৪ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবরোধ পরিকল্পনার জবাবে ইরান লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আগেই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ প্রত্যাহার করে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর দীর্ঘদিনের স্থিতাবস্থা নষ্ট হয়েছে। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরব মনে করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বন্দর অবরোধের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে দ্রুত অবরোধ তুলে নিয়ে পুনরায় আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
আরব কর্মকর্তাদের মতে ইরানের বন্দর অবরোধ করা হলে তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করা। তবে সৌদি আরব সতর্ক করেছে যে এর জবাবে ইরান বাব আল মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এই পথটি লোহিত সাগরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং সৌদি আরবের অবশিষ্ট তেল রপ্তানির জন্য এটি অপরিহার্য।
গত ছয় সপ্তাহের সংঘাতে তেহরান প্রমাণ করেছে যে তারা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করার পাশাপাশি আঞ্চলিক অবকাঠামোয় হামলা চালাতে সম্পূর্ণ সক্ষম ও প্রস্তুত। এর ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর ঝুঁকির মাত্রা পরিবর্তিত হয়েছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
সংঘাতের মধ্যেও সৌদি আরব মরুভূমি পেরিয়ে লোহিত সাগরে তেল পাঠিয়ে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু হরমুজে অবরোধ অব্যাহত থাকায় তাদের বিকল্প পথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। রিয়াদের আশঙ্কা হচ্ছে বাব আল মান্দেব প্রণালিও বন্ধ হয়ে গেলে তাদের এই রপ্তানি প্রক্রিয়াও বড় ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হবে।
এস এম/ ১৪ এপ্রিল ২০২৬









