মার্কিন নৌ অবরোধকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে ইরানের তীব্র প্রতিবাদ

তেহরান, ১৪ এপ্রিল – ইরানি বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে দেশের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি প্রদান করেছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর এক গুরুতর আঘাত।
ইরাভানি এই অবরোধকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে জানান এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের মৌলিক নীতিরও সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দর ও উপসাগরীয় উপকূলে জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন কোনো ইরানি জাহাজ এই অবরোধ অমান্য করলে তা ধ্বংস করা হবে। এর আগে পাকিস্তান এবং কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার পরও নির্দিষ্ট সময় থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখনও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য উভয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি সকল পক্ষকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় বিশ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
ফলে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চিঠিতে ইরাভানি আরও সতর্ক করে বলেন এই বেআইনি অবরোধ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি এবং তা এই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
অপর একটি চিঠিতে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে সেসব দেশকে এই ধরনের আন্তর্জাতিক বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। ইরান দাবি জানিয়েছে যে বাহরাইন সৌদি আরব কাতার সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানকে তাদের দেশের ওপর হওয়া সকল ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
এস এম/ ১৪ এপ্রিল ২০২৬









