কাহারোলে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশিতে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ

দিনাজপুর, ১০ এপ্রিল – দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২২টি হাটবাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত নতুন দামের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। ফলস্বরূপ ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডার ভোক্তা পর্যায়ে দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে গত মাসে এই দাম ছিল এক হাজার ৩৪১ টাকা। সেই হিসাবে ১২ কেজি সিলিন্ডারপ্রতি দাম ৩৮৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে স্থানীয় ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম সর্বোচ্চ ৮১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করা হচ্ছে। উপজেলার ১০ মাইল বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তাই কেনা দামের ওপর সামান্য কিছু টাকা লাভ রেখে তারা গ্যাস বিক্রি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, আগে ডিলাররা ১০ থেকে ১২টি করে সিলিন্ডার সরবরাহ করলেও বর্তমানে মাত্র তিন বা চারটি সিলিন্ডার দিচ্ছেন। ডিলাররাই সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম রাখছেন বলে দাবি তাদের। আমিনুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে অবৈধভাবে গ্যাসের দাম বেশি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মীম জানান, যেকোনো ধরনের মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এস এম/ ১০ এপ্রিল ২০২৬









