বোমার শব্দ থেকে শিশুদের বাঁচাতে তেহরানে বাবা-মায়ের ভিন্ন লড়াই

তেহরান, ৩১ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা এক ভিন্ন রকম লড়াইয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলার প্রচণ্ড শব্দ থেকে সন্তানদের মানসিকভাবে সুরক্ষিত রাখতে গান ও নাচের আশ্রয় নিচ্ছেন অনেক অসহায় বাবা ও মা। সম্প্রতি তেহরানে বড় ধরনের হামলার পর এক বাসিন্দা জানান, বোমার প্রচণ্ড কম্পনে তার অ্যাপার্টমেন্টের জানালার কাচ ভেঙে পড়েছিল। সেই মুহূর্তে আতঙ্কিত শিশুদের শান্ত রাখতে তারা উচ্চৈঃস্বরে গান চালিয়ে নাচতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল বাইরের ধ্বংসযজ্ঞের শব্দ যেন শিশুদের কানে না পৌঁছায়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, বাচ্চারা জেগে থাকায় বোমার শব্দ আড়াল করতে বাধ্য হয়েই তাদের নাচ ও গানের অভিনয় করতে হয়েছে। এভাবে কতদিন টিকে থাকা সম্ভব তা নিয়ে তারা গভীর সংশয়ে আছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান দ্বিতীয় মাসে গড়ালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষার জন্য বারবার সতর্কবার্তা দিচ্ছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় অন্তত চৌদ্দ জন নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে তেহরান থেকে প্রায় দুইশো মাইল দক্ষিণে অবস্থিত মাহাল্লাত শহরেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, একই স্থানে বারবার হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে এক মুহূর্তের জন্য শান্তি ফিরে এলেও পরক্ষণেই আবার আতঙ্ক শুরু হয়। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অনেক সময় মনে হয় হামলা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু কয়েক দিন পর আবারও একই জায়গায় বোমাবর্ষণ করা হয়।
এই অনিশ্চয়তা এবং ক্রমাগত প্রাণভয়ের মধ্যে শিশুদের শৈশব এখন চার দেয়ালের মাঝে গান আর কৃত্রিম হাসির আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। তেহরানের আকাশ এখন কেবল ক্ষেপণাস্ত্র আর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন নয় বরং তা অসংখ্য পরিবারের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে।
এস এম/ ৩১ মার্চ ২০২৬









