মধ্যপ্রাচ্য

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জেট ফুয়েলের চরম সংকট

তেহরান, ২৯ এপ্রিল – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের সরবরাহ রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের হার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে যেখানে সাপ্তাহিক পরিবহনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ লাখ টন, গত সপ্তাহে তা অর্ধেকেরও নিচে নেমে মাত্র ২৩ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।

শিপিং ডাটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর থেকে জেট ফুয়েল সরবরাহের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বর্তমানে মজুত থাকা জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে যা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এর পাশাপাশি চীন হংকং বাদে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। সুইডেনের জ্বালানি মন্ত্রী ইবা বুশ সতর্ক করে বলেছেন যে বিশ্ব শীঘ্রই বড় ধরনের জ্বালানি ঘাটতির মুখে পড়তে যাচ্ছে।

এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর ওপর। জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে অনেক এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে। জার্মান বিমান সংস্থা লুফথানসা ইতিমধ্যেই তাদের গ্রীষ্মকালীন সূচি থেকে ২০ হাজার স্বল্পপাল্লার ফ্লাইট বাতিল করেছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উইলি ওয়ালশ জানিয়েছেন, এই সংকট প্রথমে এশিয়ায় তীব্র হবে এবং পর্যায়ক্রমে ইউরোপ ও আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সেপ্টেম্বর নাগাদ বেশ কিছু ইউরোপীয় বিমান সংস্থা দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এস এম/ ২৯ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language