অস্তিত্ব সংকটে আফ্রিকান পেঙ্গুইন: ৩০ বছরে সংখ্যা কমেছে ৮০ শতাংশ

প্রিটোরিয়া, ৪ ফেব্রুয়ারি – দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ আফ্রিকান পেঙ্গুইন বর্তমানে চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য, যেখানে দেখা গেছে গত তিন দশকে এই প্রাণীর সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রজননক্ষম আফ্রিকান পেঙ্গুইন টিকে আছে মাত্র ১০ হাজার জোড়া। এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট ও অনাহারকে।
পেঙ্গুইনদের প্রধান খাদ্যতালিকায় রয়েছে সার্ডিন ও অ্যাঙ্কোভি জাতীয় মাছ, কিন্তু অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রে এসব মাছের প্রাপ্যতা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে পেঙ্গুইনদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। যেখানে একটি সুস্থ পেঙ্গুইনের ওজন সচরাচর ৪ কেজি হওয়ার কথা, সেখানে বর্তমানে তা কমে ২ কেজির নিচে নেমে এসেছে।
ক্ষুধার জ্বালায় অনেক সময় পেঙ্গুইনরা সমুদ্রের পাথর গিলে ফেলছে যা তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে এদের পালক বদলানোর স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খাদ্য সংকট ছাড়াও সমুদ্রের তেলদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য, বার্ড ফ্লু এবং জাহাজ চলাচলের উচ্চ শব্দ এদের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ ছয়টি নির্দিষ্ট এলাকায় আগামী ১০ বছরের জন্য মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ‘স্যানকব’ নামের একটি সংস্থা অসুস্থ পেঙ্গুইনদের চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং কৃত্রিমভাবে কলোনি তৈরি করে তাদের বংশবৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে কার্যকর ও বড় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এই বিরল প্রজাতির পেঙ্গুইন পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে, যা সামগ্রিক সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য এক অশনিসংকেত।
এএম/ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









