সিলেট

ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, সোমবার থেকে কাজে ফেরার ঘোষণা

সিলেট, ১৮ জানুয়ারি – সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কাজে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মোহাম্মদ সাদিক জানান, তারা সোমবার সকাল থেকে কাজে যোগ দেবেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় একজন নারী চিকিৎসকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কর্মবিরতি শুরুর পর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা হলেও সমঝোতা না হওয়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এর ধারাবাহিকতায় রোববারও তারা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখেন। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করে।

রোববার দুপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে আবার বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির। ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় আনসার মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মোট আটটি বিষয়ে তাদের দাবি-দাওয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মোহাম্মদ সাদিক বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে তারা কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সোমবার সকাল ৮টা থেকে তারা কাজে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি।

এ সময় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির সাংবাদিকদের বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মবিরতি তুলে নিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। এরই মধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, হাসপাতালের প্রতিটি অ্যাডমিশন ইউনিটে দুজন করে প্রশিক্ষিত আনসার থাকবে—একজন পুরুষ ওয়ার্ডে এবং একজন মহিলা ওয়ার্ডে। পাশাপাশি রাতে প্রতি এক ঘণ্টা পর পর টহল টিম ওয়ার্ডগুলো পরিদর্শন করবে এবং জরুরি প্রয়োজনে ডাকামাত্র আনসার সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া একজন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজন থাকতে পারবেন। শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে আলাদা সময়ে স্বজনদের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই একজন রোগীর জন্য দুজনের বেশি স্বজনকে অনুমতি দেওয়া হবে না।

প্রতি মাসে হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়মিত সভার ব্যবস্থা থাকবে। হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সব সময় মিড লেভেল চিকিৎসক উপস্থিত থাকবেন, বিশেষ করে অ্যাডমিশনের দিনগুলোতে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রারদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিয়মিতভাবে হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির অবাধ প্রবেশ বন্ধ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের জন্য নির্দিষ্ট সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হবে।

এনএন/ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language