শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

সিলেট, ১১ জুলাই – সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ১৮ দিন পর পুনরায় খোলা হয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মাজারের দানবাক্সগুলো খুলে ৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। দিনভর গণনা শেষে দেখা গেছে দানবাক্সগুলোতে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা জমা হয়েছে।
মাজারের আয় ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে প্রশাসনের এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। গত মাসে মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দানবাক্স ও ডেগগুলো সিলগালা করার উদ্যোগ নেন।
দীর্ঘ প্রায় ৭০০ বছর ধরে চলে আসা মাজারের দানে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠার পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর আগে ২২ জুন প্রথমবার দানবাক্স খোলার পর ১৭ লাখ টাকার বেশি পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমানে মাজারের নামে একটি যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে এই অর্থ সরকারি তত্ত্বাবধানে জমা রাখা হচ্ছে।
শনিবার সকালে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির উপস্থিতিতে তিনটি বড় ডেগ এবং ছয়টি দানবাক্স খোলা হয়। মোট ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টাকা গণনার কাজ সম্পন্ন করেন। তবে মাজারের দান করা এই অর্থ এখনো কোনো নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছে না।
এর মূল কারণ হচ্ছে অর্থ ব্যবহারের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান যে দানের অর্থ দিয়ে লঙ্গরখানা পরিচালনা এবং স্বেচ্ছাসেবক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন পরিশোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে এই সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুমোদনের পর মাজারের উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কাজে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। মাজারের আয় ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ১৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি কাজ করছে।
এস এম/ ১১ জুলাই ২০২৬









