ঢালিউড

অঞ্জনার কথিত সন্তানকে তিন দিনের আল্টিমেটাম

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি – জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান এক সপ্তাহের বেশি সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর অবশেষে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তার মৃত্যু নিয়ে বেঁধেছে রহস্যের জাল।

গত ৪ জানুয়ারি সকালে হাসপাতাল থেকে মরদেহ নেয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিনেত্রীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে উপস্থিত সবার মধ্যে নানা প্রশ্ন ওঠে। মরদেহ গোসলের সময় এসব চিহ্ন স্পষ্ট হওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-তে নেয়া হলে, এ নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

একে একে বেরিয়ে আসে অঞ্জনার কথিত ছেলে নিশাত মনিকে নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। একাধিক শিল্পীর অভিযোগ, অঞ্জনার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে কথিত সন্তান নিশাত মনি!

বিষয়টি উদ্বেগ জানিয়ে অঞ্জনার বোন রঞ্জনা। রোববার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে অঞ্জনার মৃত্যু রহস্য উন্মোচন এবং সম্পদের হিসেব চেয়ে বিচার জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ নিয়ে সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং বরেণ্য অভিনেতা আলমগীরের উপস্থিতিতে তাৎক্ষনিক মিটিং করে কথিত ছেলে, জামাই ও ড্রাইবারকে সম্পদের হিসেব এবং অবহেলা নিয়ে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন সমিতির মুখপাত্র এবং সহ-সভাপতি ডি এ তায়েব।

তায়েব বলেন, অভিযোগ আমলে নিয়ে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসাবাদে অনেক কিছু ঘোলাটে লাগছে। মনি, ড্রাইভারের নাম ও আইডি কার্ডে কোনো মিল নেই। পুরো বিষয়টি রহস্যজনক। ৩ দিনের মধ্যে কথিত সন্তান মনি এবং রিপন পুরো বিষয় নিয়ে মুখ না খোলে তখন আইনি ভাবে বিষয়টি দেখা হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে নিশাত মনি বলেন, আমি ৩ দিনের মধ্যে শিল্পী সমিতিতে সব হিসেব জমা দেব। আমি যদি অপরাধী প্রমাণিত হই তাহলে আইন অনুযায়ী শাস্তি মেনে নেব।

এদিকে, কথিত সন্তান মনির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানিয়েছেন কথিত মেয়ে জামাই রিপন।

প্রসঙ্গত, টানা ১৫ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন অঞ্জনা। শুরুতে তার জ্বর ছিল। সারা শরীর কেঁপে জ্বর আসত। একটা সময় ওষুধ খেয়েও কাজ হচ্ছিল না। শেষে জানা যায় তার রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আইএ/ ১২ জানুয়ারি ২০২৫


Back to top button
🌐 Read in Your Language