পশ্চিমবঙ্গ

‘গাঁটওয়ালা বাঁশ দিয়ে মুখে মারব, হাসপাতালে পাঠাব, পুলিশের আটকানোর ক্ষমতা নেই’, প্রকাশ্যে হুমকি বিজেপি নেতার

কলকাতা, ১০ জানুয়ারি – এর আগে গাঁটওয়ালা বাঁশের ব্যবহারের কথা শোনা গিয়েছিল বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের মুখে। এবার সেই বাঁশ দিয়ে মেরে তৃণমূলের কর্মীদের মুখ, হাঁটু ভেঙে দেওয়ার নিদান দিলেন মেদিনীপুর (Medinipur) জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অরূপ দাস। দলের নেতা কর্মীদের চাঙ্গা করতে অনেক কথাই বলতে হয় এই নেতাদের। আর ভোটের সময় এলে তো এই জ্বালাময় ভাষণই শিরোনামে নিয়ে আসে তাঁদের। রাজনৈতিক নেতারাও তা ভালই বোঝেন। তাই পঞ্চায়েত ভোট যত এগিয়ে আসছে, লাগামহীন হচ্ছে শাসক-বিরোধী, সকলেরই মুখের ভাষা। আবাস যোজনা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ জেলায় জেলায়। বিরোধীরা সেই অভিযোগকে ইতিমধ্যেই দুর্নীতি বলে দাগিয়ে দিয়েছে। তাকে ইস্যু করেই ময়দানেও নেমেছে। সোমবার মেদিনীপুর সদর বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। আর সেই বিক্ষোভ অবস্থানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা বিজেপির মুখপাত্র তথা জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অরূপ দাস বিতর্কিত মন্তব্য করেন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে মেদিনীপুরে রাজনৈতিক চাপানউতর।

কী বলেছেন অরূপ দাস?

সোমবার বিডিও অফিসের সামনে টোটোয় দলীয় পতাকা, সাউন্ড বক্স লাগিয়ে ভাষণ দেন অরূপ দাস। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমরা তৃণমূল নই। তবে যে তৃণমূল নেতারা টাকা খাবেন, মোটা গাঁটওয়ালা বাঁশ আছে, মুখেও মারব, গাঁটেও মারব। হাসপাতালে পাঠাব, দায়িত্ব নিয়ে বলে যাচ্ছি। কোনও পুলিশ বাঁচাতে পারবে না। এক পয়সাও ওই অঞ্চল প্রধানকে খেতে দেব না। তৃণমূল নেতাকে থামে বেঁধে মারব। গাঁটওয়ালা বাঁশ দিয়ে মুখে মারব, হাঁটুতে মারব, ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি করব। পুলিশেরও ক্ষমতা নেই আটকাবে। এ কথা বলে গেলাম।”

এরই পাল্টা জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরার বক্তব্য, “বিজেপি দলটা বাংলাতে টিকে রয়েছে ভাষা সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে। এরা কোনও উপকারে নেই, মানুষের কোন কল্যাণে নেই। তাঁদের রাজ্যস্তরের নেতাদেরও মুখের ভাষা একইরকম। স্বাভাবিকভাবেই সেই দলের জেলার সহ-সভাপতি ভাষা সন্ত্রাসের মধ্য দিয়েই নিজেকে টিকিয়ে রাখবেন।”

সূত্র: টিভি নাইন
আইএ/ ১০ জানুয়ারি ২০২৩


Back to top button
🌐 Read in Your Language