পশ্চিমবঙ্গ

সব সরকারি স্কুলে নীল-সাদা ইউনিফর্ম চায় পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতা, ২৩ ডিসেম্বর – বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা আলাদা আলাদা রঙের ইউনিফর্ম পরে থাকে। অনেক সময় ইউনিফর্ম দিয়েই চেনা যায় কে কোন স্কুলের শিক্ষার্থী। কিন্তু এই ভিন্নতার পরিবর্তে একই ধরনের পোশাক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যে যত সরকারি, সরকার পোষিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল রয়েছে, সবখানে একই রঙের পোশাক চালুর পক্ষে মমতা ব্যানার্জীর দপ্তর।

রাজ্যের সিদ্ধান্ত, প্রাক প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর ইউনিফর্মের রঙ এক থাকবে। নীল-সাদা পোশাক পরতে হবে সবাইকে।

অধিকাংশ স্কুল এরই মধ্যে এ সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছে। তবে ৩১টি স্কুল তাদের বর্তমান ইউনিফর্ম বদলাতে রাজি হয়নি বলে জানা গেছে। তাদের ভাষ্য, স্কুলের এতদিনের ইউনিফর্মের সঙ্গে মিশে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও পরম্পরা। অনেক কৃতী শিক্ষার্থীর স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে এর সঙ্গে।

রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস’ এর সভাপতি হরিদাস ঘটকও। তিনি বলেন, সব স্কুলের পোশাক এক হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা যাবে না। তারা স্কুলের নাম করে অন্য কোথাও গেলে বোঝা যাবে না এরা কোন প্রতিষ্ঠানের। তবুওএই সিদ্ধান্ত মানতে আমাদের বাধ্য করা হচ্ছে। অভিভাবকরাও এটি মানতে পারছেন না।

পোশাক বদলে নারাজ স্কুলগুলো মধ্যে রয়েছে কলকাতার পাঠভবন, মিত্র ইনস্টিটিউশন, স্কটিশ চার্চের মতো নামকরা প্রতিষ্ঠান। সেখানকার প্রধান শিক্ষকদের বক্তব্য, বহু কৃতী মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানে পড়েছেন। বর্তমান ইউনিফর্ম তারাও ব্যবহার করেছিলেন। সেই স্মৃতি কীভাবে মুছে ফেলা সম্ভব?

১৯০৫ সালে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত মিত্র ইনস্টিটিউশনের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সৈনিক যতীন দাস, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, সঙ্গীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়দের মতো গুণিজন। পাঠভবনের লোগো তৈরি করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। বিশ্ববাংলার লোগো ইউনিফর্মে লাগাতে নারাজ স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এই ঐতিহ্যের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার। তিনি বলেন, প্রতিটি স্কুল স্বতন্ত্র। এ জন্য তারা গর্ববোধ করে। তাদের ঐতিহ্য অনুসরণ করে চলা উচিত। সব স্কুলে নীল-সাদা ইউনিফর্মের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও অনুচিত।

তবে শিক্ষা মহলের একাংশের বক্তব্য, একই সিলেবাস, শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে থাকা শিক্ষার্থীরা একই পোশাক পরলে আপত্তি কীসের?

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ২৩ ডিসেম্বর ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language