অনলাইন টিকিট নিয়ে এ কেমন সিদ্ধান্ত রেলওয়ের?

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর- আপনি অনলাইন থেকে টিকিট ক্রয় করলেন। প্রতি টিকিটের জন্য আপনাকে অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এরপর সেই টিকিটের পিডিএফ কপি বাসার কিংবা দোকানের প্রিন্টারে প্রিন্ট করতে হবে। এতদিন এটুকু করেই আপনি ট্রেনে উঠতে পারতেন। কিন্তু রেলওয়ের নতুন আইনে (!) সেটা পারবেন না। অনলাইনে টিকিটের প্রিন্ট কপি নিয়ে আপনাকে আবারও গাড়ি ভাড়া দিয়ে ছুটতে হবে স্টেশনে। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে আবারও সেই টিকিট কাউন্টার থেকে প্রিন্ট করাতে হবে। তারপরেই আপনি ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন! রেলের নোটিশ থেকে এটাই বোঝা যাচ্ছে।
আশ্চর্য হলেও এমন হাস্যকর নিয়ম জারি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা-১ মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম খান সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘যাত্রীকে অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট ক্রয়ের হার্ডকপি অবশ্যই কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এ বিষয়ে কাউন্টারে সংগ্রহ করার সময় সংশ্লিষ্ট মোবাইল অথবা কম্পিউটার থেকে বের করা কপি কাউন্টারে প্রদর্শন পূর্বক (মোবাইল নাম্বার, এনআইডি কার্ড) সহ প্রদর্শন করে হার্ডকপি নিতে হবে। কোনো ক্রমেই কোনো চিরকুট অথবা পিন নাম্বার দিয়ে টিকিট দেওয়া যাবে না।’
ইতোমধ্যেই এই আইন কার্যকর করা হয়েছে এবং যাত্রীরা ব্যাপক হয়রানির মাঝে পড়েছেন। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন যাত্রীরা। নাজির নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে দয়াকরে অনলাইনকে অনলাইনের মত চলতে দিন, আর কাউন্টারকে কাউন্টারের মত, দুটোকে মিক্স করার দরকার নাই। দয়া করে জনগণের কাছে রেলকে আর হাসির পাত্র করে তুলবেন না। অলরেডি বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের বারোটা আপনারা বাজিয়েছেন, আর না প্লিজ।’
যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইন টিকিট প্রিন্ট করাতে যদি আবারও সেই গাড়িভাড়া খরচ করে রেলস্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়; তাহলে কথিত অনলাইন টিকিটের মানে কি? এটা সত্য যে, গত কিছুদিনে বেশকিছু টিকিট প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। ফটোশপ করা টিকিটও ধরা পড়েছে। তবে টিকিট ভেরিফাই করার জন্য রেলসেবা অ্যাপসেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। টিকিট চেকার চাইলেই সেই অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট ভেরিফাই করতে পারেন। একজনের টিকিট অন্যজনের ক্ষেত্রে এনআইডি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক তো আছেই।
প্রকৃত অর্থে টিটিইরা ট্রেনে টিকিট চেক করেন না। এই প্রতিবেদক চলতি মাসের ১৮ এবং ১৯ তারিখে যথাক্রমে আপ তিস্তা এক্সপ্রেস আর ডাউন ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করলেও টিটিইর দেখা পায়নি। রেলের লোকেদের ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় অবৈধ যাত্রী তোলায়। অথচ এই টিটিইরা চাইলে খুব সহজে অবৈধ টিকিটধারীদের ধরে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারেন। সেটা তারা করেন না। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে যাত্রীদের। রেলের উচিত ছিল টিকিট চেকিং সিস্টেম ডিজিটাল করা। সেখানে তারা অনলাইন সিস্টেমকেই হাস্যকর বানিয়ে ফেলেছে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে মুঠোফোনের অ্যাপ থেকে টিকিট প্রদর্শন করলেই তারা সেটা ভেরিফাই করে যাত্রার অনুমতি দেয়। কম্পিউটার প্রিন্ট করলেও চলে। সেখানে অনলাইন টিকিট কাটতে অতিরিক্ত কোনো চার্জ নেওয়া হয় না। অনলাইনে ক্রয়কৃত টিকিট ফেরতের ব্যবস্থাও আছে। বাংলাদেশে এর কিছুই নেই। শুধু নামেমাত্র অনলাইন টিকিট কাটা যায়! এখন আবার সেই অনলাইন টিকিট প্রিন্ট করে কাউন্টারে গিয়ে আবার প্রিন্ট করাতে হবে! বাংলাদেশ রেলওয়ের এসব উদ্ভট সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন যাত্রীরা। অনেকেই বলছেন, যাত্রীদের রেলবিমুখ করতেই রেলের এই উদ্ভট সিদ্ধান্ত নয় তো?
সূত্র: কালের কন্ঠ
আর/০৮:১৪/১৯ নভেম্বর







