ইউক্রেন-রাশিয়া উত্তেজনা নিরসনে আবুধাবিতে বৈঠক, আলোচনায় অংশ নেবে ফ্রান্সও

প্যারিস,০৮ নভেম্বর-ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলতি সপ্তাহে আবুধাবিতে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এতে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর সংঘাত নিরসনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক হতে যাচ্ছে। তবে রবিবার (৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউরোপের প্রতিনিধি হিসেবে ফ্রান্স অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো আরটিএল রেডিওকে বলেছেন, এই আলোচনায় ইউরোপের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং ফ্রান্সও আবুধাবিতে উপস্থিত থেকে অংশ নেবে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কারা এই আলোচনায় অংশ নেবেন, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রাশিয়ার সঙ্গে বড় একটি চুক্তির ইঙ্গিত দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে। তাঁর এই ইঙ্গিতের পর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ওয়াশিংটন হয়তো ক্রেমলিনের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। কারণ, এই চুক্তিতে শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, বরং ‘পুরো ইউরোপ’ অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের অংশগ্রহণ চান। অন্যদিকে, মস্কো জানিয়েছে, এই আলোচনায় ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের কোনো জায়গা থাকবে না। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো বলেন, অতীতেও এ ধরনের আলোচনা কখনো ইউরোপীয়দের ছাড়াই, আবার কখনো তাদের উপস্থিতিতে হয়েছে। তবে এবার তারা অবশ্যই অংশ নেবেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স সেখানে থাকবে এবং ইউরোপের কণ্ঠস্বর যেন শোনা যায়, তা নিশ্চিত করবে।
বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় আলোচনার আগে ব্রাসেলসে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ইউক্রেন এবং নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)-এর কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। ন্যাটোর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাপ্তি নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ব্রাসেলসের ওই বৈঠকে অংশ নেন। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে, এমন একটি বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখছে। কারণ, ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে সাজানোর বিষয়ে মস্কোর আকাঙ্ক্ষা তারা দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর আগে ক্রেমলিন ন্যাটোর কাছে একটি আল্টিমেটাম দিয়েছিল। এতে পূর্ব ইউরোপ থেকে ন্যাটো জোটের সেনা প্রত্যাহারের দাবিও ছিল। বৃহস্পতিবার কুশনার জানিয়েছেন, আবুধাবির আলোচনার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরামর্শ করবে। কোনো অগ্রগতি হলে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি বৃহত্তর বহুপক্ষীয় কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে।
এস এম/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬







