ইরানকে ৯০টি উন্নত হেলিকপ্টার ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে যাচ্ছে রাশিয়া

মস্কো,০৬ নভেম্বর-ইরানকে ৯০টি উন্নত হেলিকপ্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা দ্য ডালাস অ্যানালিটিক্স সম্প্রতি দুই দেশের এই লেনদেনসংক্রান্ত গোপন নথি সংগ্রহ করে ফাঁস করেছে।
ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, ইরানকে উন্নত প্রযুক্তির ৯০টি এমএলইউআর গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে রাশিয়া।
নথিগুলোতে ইরানকে ‘এলএমইউআর’ ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চার সরবরাহের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এমএলইউআর এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র, যা অ্যাটাক হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছে।
ইরানকে এই উন্নত লঞ্চার ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য রাশিয়া যে রপ্তানি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, সেটির নাম ‘কে-১০’। চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, লঞ্চারগুলো তৈরি করেছে রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিম্পেল। ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এগুলো সরবরাহ করার কথা ছিল। রাশিয়ার আলাদা কিছু অভ্যন্তরীণ নথিতে ‘কে-১০’ বলতে যে ইরানকে বোঝানো হয়েছে, সেটিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত লঞ্চারগুলো ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি দ্য ডালাস অ্যানালিটিক্স। অবশ্য ফাঁস হওয়া নথিতে ২০২৩ সালে ইরানের জন্য ছয়টি ইয়াক-১৩০ জেট প্রশিক্ষণ বিমান তৈরির একটি সময়সূচি পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্যে আসা বিমান হস্তান্তরের তথ্যের সঙ্গে এই সময়সূচির মিল রয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্বের অনেক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে মস্কো। কারণ, এই যুদ্ধ কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়াকে লাভবান করেছে।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া যে বাড়তি আয় করছে, তা একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ক্রেমলিনকে অতিরিক্ত অর্থ জোগাচ্ছে। অন্যদিকে এই আয় রাশিয়ার জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ কমাতেও সহায়তা করছে।
এ ছাড়া এই যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক মনোযোগ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জামের একটি বড় অংশ ইউক্রেন থেকে অন্যদিকে সরে গেছে। ফলে কিয়েভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি গুরুত্বপূর্ণ ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার সুযোগ আরও কমে গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবারই ইরানের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, তেহরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে রাশিয়া ‘খুবই সামান্য, যদি আদৌ কিছু করে থাকে’—এমন ভূমিকা রাখছে। তার যুক্তি ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চলমান আলোচনা থেকে তিনি মস্কোকে দূরে সরিয়ে দিতে চান না।
এস এম/ ০৬ নভেম্বর ২০২৬







