
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কানাডার সীমান্তঘেঁষা অঙ্গরাজ্য নিউ হ্যাম্পশায়ার। পাহাড়, হ্রদ ও বিস্তীর্ণ বনভূমির এই রাজ্য ‘গ্রানাইট স্টেট’ নামে পরিচিত। রাজধানী কনকর্ড। আয়তনে ছোট হলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক ভোট ঘিরে রাজ্যটি বারবার মার্কিন রাজনীতির আলোচনায় আসে। সেই নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভায় সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান নেতা আবুল বাশার খান।
৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রকিংহাম কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট–৩০ থেকে জয় পেয়েছেন তিনি। সিব্রুকের এই নির্বাচনী এলাকা থেকে দুজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। স্থানীয় নির্বাচনী তথ্যসংস্থা সিটিজেনস কাউন্টের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, তিন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন আবুল বাশার খান। দ্বিতীয় আসনে জয়ী হয়েছেন একই দলের জেসন এ. জানভ্রিন। পরাজিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডায়ানা ল্যাব্রেক চ্যাপম্যান।
আবুল বাশার খান প্রথমবার অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন ২০১২ সালে। এরপর ২০১৬, ২০১৮, ২০২০, ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয় পান। এবারের জয়ে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা দাঁড়াল সাত। নিউ হ্যাম্পশায়ার আইনসভার সরকারি পরিচিতিতেও বিদায়ী মেয়াদে তাঁকে ষষ্ঠবারের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে তাঁর বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া পৌর শহরে। বাবা প্রয়াত মাহাবুব উদ্দিন খান কাঞ্চন ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী সচিব। মা প্রয়াত শাহানারা বেগম। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আবুল বাশার খান সবার বড়। তাঁর ছোট বোন রোজী খান অস্ট্রেলিয়ায় এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ১৯৮৪ সালে পিরোজপুরের মর্জিয়া হুদা খানকে বিয়ে করেন আবুল বাশার খান। তাঁদের দুই সন্তান। ছেলে আতিক খান এবং মেয়ে নূসরাত জাহান।
ঢাকার মুসলিম সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে মাধ্যমিক এবং নটর ডেম কলেজ থেকে ১৯৭৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন আবুল বাশার খান। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে পড়াশোনার পর ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। ১৯৮৭ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পান।
যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রথম জীবনের বড় অংশ কেটেছে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে। প্রায় দুই দশক পর ২০০০ সালে সিব্রুকে চলে যান। সেখানে গ্যাসস্টেশন ও নিত্যপণ্যের দোকানের ব্যবসা করেন। পরে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট ব্যবসায় যুক্ত হন। ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তোলা পরিচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনেও সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সিব্রুকের পরিকল্পনা বোর্ড ও বাজেট কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন আবুল বাশার খান। এরপর ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন শহরের বোর্ড অব সিলেক্টমেনের সদস্য। স্থানীয় প্রশাসনের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রবেশ করেন তিনি। বিদায়ী মেয়াদে মৎস্য, বন্য প্রাণী ও সামুদ্রিক সম্পদবিষয়ক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের জয় তাঁকে আবারও কনকর্ডের আইনসভায় সিব্রুকের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিল।
এদিকে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ৬ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৫৩টি এবং রিপাবলিকানরা ১৫৭টি আসনে জয় পেয়েছেন; এখনো ২৫টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি। সিনেটে দুই স্বতন্ত্র মিত্রসহ ডেমোক্র্যাটদের আসন দাঁড়িয়েছে ৫৪টি, রিপাবলিকানদের ৪৪টি। আলাস্কা ও মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনের ফল এখনও অনিষ্পন্ন। দেশজুড়ে রিপাবলিকানদের এই বিপর্যয়ের মধ্যেও নিউ হ্যাম্পশায়ারের অঙ্গরাজ্য আইনসভায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন আবুল বাশার খান।
তথ্যসূত্র: Associated Press (AP), The Guardian







