মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ: আরব-ইহুদি জোট সরকারের দাবিতে উত্তাল তেল আবিব

তেল আবিব, ০১ নভেম্বর – ইসরায়েলে সদ্য সমাপ্ত পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর রাজনৈতিক নাটকীয়তা চরম রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তেল আবিব ও জেরুজালেমে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলো মিলে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬৭টি আসন) পাওয়ায়—তাদের একত্রিত হয়ে অতি দ্রুত নতুন জোট সরকার গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

তবে এই আন্দোলনের বিপরীতে নেতানিয়াহু সমর্থক ও কট্টর ডানপন্থীদের উসকানিমূলক পাল্টা বিক্ষোভে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

তেল আবিব থেকে জেরুজালেম: রাজপথে সম্প্রীতির সুর

শনিবার ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামক একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আহ্বানে তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় দুই হাজার মানুষ সমবেত হন।

বিক্ষোভের চিত্র: আন্দোলনকারীরা ‘ইহুদি ও আরবরা একে অপরের শত্রু হতে চায় না’, ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, সম্প্রীতির পক্ষে’ এবং ‘সবার জন্য সমতা’ সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে হাবিমা স্কয়ার থেকে রাবিন স্কয়ার পর্যন্ত পদযাত্রা ও ঢোল বাজিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অন্যান্য শহর: একই দাবিতে জেরুজালেম এবং গত বৃহস্পতিবার হার্জলিয়া শহরেও বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পার্লামেন্টের গাণিতিক হিসাব: কার হাতে কত আসন?

গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। তবে কোনো একক দল বা জোট এই সংখ্যা ছুঁতে পারেনি:

| জোট / দল | নেতৃত্ব / পরিচয় | প্রাপ্ত আসন |

  • নেতানিয়াহুর জোট | কট্টর ডানপন্থী জোট | ৫৩টি |
  • প্রধান বিরোধী জোট | সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট | ৪৮টি |
  • আরব রাজনৈতিক দল | রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট | ১৯টি |

৬৭ আসনের সমীকরণ বনাম অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য

গাণিতিক হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলোর ১৯টি আসন মেলালে মোট আসন দাঁড়ায় **৬৭টি**। এই জোটে নেতানিয়াহুকে সহজেই ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব। ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান ইতোমধ্যেই আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদকে নতুন স্পিকার করার বিষয়েও বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

তবে মূল বাধা অন্য জায়গায়:

বিরোধী শিবিরের চারটির মধ্যে তিনটি দল—ইয়াশার, বি’য়াচাদ এবং ইসরায়েল বেইতেনু—আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনে তীব্র অনীহা প্রকাশ করেছে। ফলে খাতাকলমে ৬৭টি আসন থাকলেও বাস্তবিক পক্ষে বিকল্প সরকার গঠন নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

কট্টর ডানপন্থীদের পাল্টা বিক্ষোভ ও বর্ণবাদী স্লোগান

অন্যদিকে, শনিবার হাবিমা স্কয়ারেই নেতানিয়াহুর পক্ষে প্রায় ২০০ জন সমর্থক পাল্টা সমাবেশ করেন। তারা অভিযোগ তোলেন যে আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে।

বিক্ষোভে উপস্থিত বিদায়ী পার্লামেন্টের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা কাউকে নির্বাচন চুরি করতে দেব না।” এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসীদের গাজায় পাঠাও, সরকারে নয়’ এবং ‘তোমাদের গ্রাম পুড়ে ছাই হোক’-এর মতো চরম উসকানিমূলক ও বর্ণবাদী স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরও ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তা ও রাজপথের মুখোমুখি সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।

এনএন/ ০১ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language