ইসরায়েলের জনগণ নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে: গাদি আইজেনকোট

তেল আবিব,৩০ অক্টোবর-ইসরায়েলের নির্বাচনে এক্সিট পোলের ফল প্রকাশের পর ভাষণ দিয়েছেন ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট। ভাষণে তিনি নতুন রাজনৈতিক পর্বের সূচনা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দেশের জনগণ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একটি দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের পক্ষে রায় দিয়েছে।
আইজেনকোট বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ইসরায়েলের জনগণ দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু এখন জাতীয় ও ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখোমুখি, যা তার নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠীর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। দেশের কর্মক্ষম ও সেবা প্রদানকারী জনগণের বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ব্যর্থ এই জোট সরকারের ওপর জনগণ আস্থা হারিয়েছে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার বার্তা দিয়েছে। একজন দায়িত্বশীল নেতার উচিত জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো।
চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে আইজেনকোট বলেন, আবার নতুন করে নির্বাচনে যাওয়া হবে বড় ধরনের ভুল। জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব। দেশে বিভাজন, মিথ্যাচার ও ব্যর্থতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সাধারণ মানুষ তা থেকে মুক্তি চায়। ইয়াশার পার্টি শুরু থেকেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক বিকল্প তুলে ধরেছে। এই বিকল্প দেশের ধর্মীয়, ধর্মনিরপেক্ষ, ডানপন্থী, বামপন্থী ও মধ্যপন্থী—সব শ্রেণির মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি দেশটির সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব শীর্ষ কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করেন। কারণ, তারা কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত। নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা বা দেশের নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত হবে না।
আইজেনকোট প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী দিনে যে সরকার গঠিত হবে, তা দেশের সার্বিক ঐক্য ও মূল আদর্শ ধরে রাখবে। সেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবার আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে। তিনি বলেন, এটি শুধু কোনো নির্দিষ্ট দলের জয় নয়, বরং সমগ্র ইসরায়েলি জনগণের বিজয়। বিভাজন ও বিদ্বেষের দিন পেরিয়ে দেশ এখন নতুন আশা, দায়িত্ববোধ ও সম্প্রীতির যুগে প্রবেশ করছে। ভাষণ শেষে দেশের সব কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এস এম/ ৩০ অক্টোবর ২০২৬







