সৌদি আরবে ছয়টি হামলার দাবি হুতিদের, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের কথা জানাল গোষ্ঠীটি

সানা,৩০ অক্টোবর-ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি সৌদি আরবের ভেতরে ছয়টি বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে। তেল শোধনাগার, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সামরিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে এসব হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এসব অভিযানের কথা জানান। তিনি বলেন, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসন বন্ধ এবং দেশটির ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে এ ধরনের অভিযান চলতে থাকবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারি জানান, সৌদি আরবের রাস তানুরা রিফাইনারিতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া আবকাইকে অবস্থিত সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটিও লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে সঠিকভাবে আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার কারণে সেখানে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রাবিগ তেল শোধনাগারেও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি নাজরানে সৌদি সেনাদের সমাবেশের সদর দপ্তর লক্ষ্য করেও সামরিক হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি বাহিনীর সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক ওই হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তিনি আরও বলেন, ‘অবরোধের বদলে অবরোধ’ সমীকরণের আওতায় ইয়েমেনি বিদ্রোহীরা পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের আগ্রাসন বন্ধ করে এবং ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেয়।
এর আগে বিদ্রোহীদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইয়েমেনের আল-জাওফ ও তাইজ গভর্নরেটে সৌদি বিমান হামলায় ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই দুটি হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের ছয়টি গভর্নরেটজুড়ে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সৌদি বাহিনী ১১৬টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এস এম/ ৩০ অক্টোবর ২০২৬







