ইউরোপ

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৮ জনের মৃত্যু, পদত্যাগের দাবিতে মাদ্রিদে বিক্ষোভ

মাদ্রিদে বিক্ষোভ

মাদ্রিদ,২৯ অক্টোবর-স্পেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন উত্তেজিত জনতা। এই প্রতিবাদ একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যুর পর দায়ীদের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী মাদ্রিদ।

তোলেদো প্রদেশের উরদা এলাকার কাছে বুধবারের এই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ছিল স্পেনে গত দশ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় বড় রেল দুর্ঘটনা। এর আগে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি কর্ডোবা প্রদেশের আদামুজের কাছে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। ওই দুর্ঘটনায় ৪৬ জন প্রাণ হারান। পরপর দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে পুরো স্পেনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

এলডাইরিও ডট এস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতি-ডানপন্থী সংগঠন ‘ফালাঞ্জে’ ও ‘রেভুয়েলতা’র ডাকে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। সেখানে দেওয়া এক বক্তব্যে ফালাঞ্জের মুখপাত্র ফেদেরিকো ক্যাম্পানেরো সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এই খুনি ও গাদ্দারদের তাড়িয়ে দেওয়ার আগে আরও কত মানুষকে মরতে হবে? বিক্ষোভের একপর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ফ্লেয়ার ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে থাকেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে এবং লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মাদ্রিদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্লাজা দে সিবেলেসে আলাদাভাবে আরেকটি সমাবেশের আয়োজন করে ডানপন্থী দল ভক্স এবং তাদের সমর্থক ট্রেড ইউনিয়ন সোলিদারিদাদ। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় অনেকের হাতে ‘দুর্নীতিই হত্যা করে’ লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তবে এই সমাবেশ বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

এদিকে এল পাইসের হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ড থেকে জানা গেছে, ভয়াবহ দুর্ঘটনাটির আগে রেল ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা স্পষ্টতই নিরাপত্তা প্রোটোকল গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছিলেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একজন কন্ট্রোলার সামনের রেললাইন পুরোপুরি পরিষ্কার কি না, তা নিশ্চিত না করেই একটি এভিই ট্রেনকে স্বাভাবিক গতিতে চলার নির্দেশ দেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, ওই ট্রেনের গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখার কথা ছিল। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ইরিও ট্রেনের চালক বারবার সতর্কবার্তা দিলেও কন্ট্রোলাররা তাতে কোনো গুরুত্ব দেননি। তাঁরা ধেয়ে আসা এভিই ট্রেনটিকেও থামাতে ব্যর্থ হন। এর ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটির সঙ্গে এভিই ট্রেনটির ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে।

এস এম/ ২৯ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language