রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে জার্মানির বিশেষ বাহিনী

বার্লিন,২৮ অক্টোবর-জার্মানির অভিজাত স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ডের (কেএসকে) কমান্ডার জানিয়েছেন, তাঁদের ইউনিট রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে জার্মান কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো ধরনের সরাসরি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
যুক্তরাজ্যের এসএএস কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বেরেটের সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত অত্যন্ত গোপনীয় এই ইউনিটটি দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থিত তাদের ঘাঁটিতে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে। ট্যাঙ্ক, কামান, ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতায় সজ্জিত রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, এমনকি প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও কীভাবে টিকে থাকতে হবে, সেভাবেই নিজেদের প্রশিক্ষণ সমন্বয় করছেন এই কমান্ডোরা।
জার্মান পত্রিকা ‘বিল্ড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেএসকে কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আন্দ্রেয়াস ক্যুহনে বলেন, তাঁরা খুব স্পষ্টভাবেই রাশিয়াকে সম্ভাব্য শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে নিজেদের প্রস্তুত করছেন। তিনি আরও জানান, যুদ্ধ শুরু হলে তাঁর সৈন্যদের দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে অবস্থান করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সেই সময়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকবে না, এমনকি এর শেষও নাও হতে পারে।
প্রচলিত জার্মান বাহিনী মূল লড়াইয়ে নামার আগেই কেএসকে নিজেদের অভিযান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে বলে জানান ক্যুহনে। তিনি ‘বিল্ড’-কে বলেন, কোনো প্রকৃত জরুরি পরিস্থিতিতে লিথুয়ানিয়ায় অবস্থানরত ৪৫তম আর্মার্ড ব্রিগেড যখন তাদের ট্যাঙ্কের ইঞ্জিন চালু করবে, তার আগেই তাঁরা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব শেষ করতে চান। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেএসকে-র মোট ১ হাজার ৫০০ কর্মী ও সদস্যের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মূল কমান্ডো হিসেবে কাজ করেন। বাকিরা প্রশাসনিক ও অন্যান্য সহায়তামূলক দায়িত্ব পালন করেন।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অভিজাত বাহিনীকে ঘিরে চরম ডানপন্থী মতাদর্শসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। ২০১৭ সালে এক তদন্তে দেখা যায়, ইউনিটটির কয়েকজন সেনা সদস্য নাৎসি স্যালুট দিয়েছেন এবং চরম ডানপন্থী গান শুনেছেন। পরে ২০১৮ সালের এক তদন্তে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি গোপন চরম ডানপন্থী নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। অভিযোগ ওঠে, ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
এরপর ২০২০ সালে কেএসকে-র এক সার্জেন্ট মেজরের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক এবং নাৎসি-সম্পর্কিত স্মৃতিচিহ্ন উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হয়, উদ্ধার করা এসব গোলাবারুদের একটি অংশ সামরিক গুদাম থেকে চুরি করা হয়েছিল।
এস এম/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬







