বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলো

তেহরান, ২৯ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাত বাড়ার চরম আশঙ্কার মধ্যেও নতুন করে কূটনৈতিক ও শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। আগের দিন তেলের দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দর কিছুটা হ্রাস পায়।
গ্রিনিচ মান সময় বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.২২ ডলার বা ১.১ শতাংশ কমে ১১৪ ডলার ১০ সেন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১.৩৩ ডলার বা ১.৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ৪৫ সেন্টে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে থাকা শান্তি আলোচনা আবারও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে—বাজারের এই ইতিবাচক প্রত্যাশাই তেলের মূল্যে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।
জেডি ভ্যান্সের চিঠি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার নতুন মোড়:
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে ও শান্তি আলোচনা ফের চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠিয়েছেন।
এর পাশাপাশি, কাতার সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের কাছে একটি নতুন খসড়া চুক্তি জমা দিয়েছে। যদিও ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রস্তাবের কিছু ধারা নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তবুও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে তেহরান এখনও যেকোনো ইতিবাচক কূটনৈতিক উদ্যোগকে সফল হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।
তেলের দরপতন সীমিত থাকার ৩টি প্রধান কারণ:
নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমার মতে, শান্তি আলোচনার খবরে দরপতন হলেও তা বেশ সীমিত। এর পেছনে রয়েছে মূল তিনটি বড় উদ্বেগ:
১. ইয়েমেনের হুথি হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ঝুঁকি: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি এডেন বিমানবন্দরে হামলা চালানো ছাড়াও সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করেনি, তবে ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশে এই হামলা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।
২. মার্কিন নির্বাচন ও নতুন হামলার আশঙ্কা: আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কা বাজারকে পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না।
৩. মার্কিন জ্বালানি মজুতের উল্টো চিত্র: যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA) জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৯ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে একই সময়ে পেট্রলের মজুত এক লাফে ৩৯ লাখ ব্যারেল বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার উৎপাদন ঘুরে দাঁড়ানোর সংকেত:
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সংস্থা ‘জেপি মরগ্যান’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবরের পর থেকে রাশিয়ার রিয়াজান তেল শোধনাগারে নতুন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। এর ফলে দেশটির শোধনাগারগুলোতে তেল পরিশোধনের পরিমাণ দৈনিক ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল বেড়ে ৪০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। রানিং ক্যাপাসিটি বাড়ায় রাশিয়ার তেল উৎপাদনও সাময়িক পতন (২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন দৈনিক ৮৪ লাখ ব্যারেল) কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহের চাপ কিছুটা লাঘব করতে পারে।
এনএন/ ২৯ অক্টোবর ২০২৬







