কানাডায় বাংলাদেশি নারীকে নির্যাতন ও মানব পাচার, দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ড

অটোয়া,২৬ অক্টোবর-কানাডায় ভালো চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে গিয়ে শোষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এক বাংলাদেশি নারী। এ ঘটনায় মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশের একটি আদালত। সাজাপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাসুমকে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ ও সিটিভি জানিয়েছে, গত ২২ অক্টোবর সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুনের প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায় অনুযায়ী, মাসুম মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, মানব পাচারের দায়ে হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী বাংলাদেশে প্রায় ১৮ বছর সরকারি চাকরি করেছেন। কানাডায় রেস্তোরাঁয় চাকরি এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশায় তিনি দেশটিতে যান। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি সাসকাচুয়ান প্রদেশের গাল লেক ও টিসডেল এলাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কাজ করেন।
অভিযোগ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই নারীকে সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। তাঁকে যথাযথ মজুরি দেওয়া হতো না। পাশাপাশি, তাঁর কাজের অনুমতিপত্র নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করা হয়েছিল। একপর্যায়ে মাসুম ওই নারীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন এবং তাঁর ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালান।
পরে এলরোজ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কাজের অনুমতিপত্র নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় ওই নারী শোষণের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর তিনি আইনি সহায়তা নেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত ভুক্তভোগী নারীর বকেয়া মজুরি পরিশোধেরও নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ অনুযায়ী, মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডীয় ডলার এবং হায়দারকে ৫ হাজার ৮৮৫ ডলার ১৬ সেন্ট পরিশোধ করতে হবে।
এস এম/ ২৬ অক্টোবর ২০২৬







