শিক্ষার্থীদের বড় স্বস্তি: এসএসসিতে ফেল করলেও নষ্ট হবে না বছর, ৩ মাসেই পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ

ঢাকা, ১১ অক্টোবর – এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে আর অপচয় হবে না একটি মূল্যবান বছর। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে আর দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না; বরং পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তাদের ফের পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলনে’ যোগ দিয়ে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন।
শিক্ষার্থী বান্ধব উদ্যোগ: প্রধান পয়েন্টসমূহ এক নজরে
সময় বাঁচবে: প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এসএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করে পুরো এক বছর পিছিয়ে পড়ে। ৩ মাসের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা হলে তারা একই শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির সুযোগ পাবে।
ডাটাবেজ ও বিশেষ তালিকা: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এসএসসিতে অকৃতকার্য হওয়া সব শিক্ষার্থীর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করছে সরকার।
বিকল্প কর্মসংস্থান ও কারিগরি শিক্ষা: যারা সাধারণ শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে, তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সরকার প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা (Vocational Training) এবং তৃতীয় কোনো আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেমন হবে?
ঝরে পড়া রোধ ও মানসিক চাপ কমানো: ফেল করার পর সামাজিক মানসিক চাপ ও এক বছর নষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়া ছেড়ে দেয় বা মানসিক বিষণ্ণতায় ভোগে। ৩ মাসের মধ্যে রি-টেক নেওয়ার সুযোগ তাদের মানসিকভাবে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাবে।
দক্ষ মানবসম্পদ গঠন: অকৃতকার্যদের তালিকা তৈরি করে তাদের আগ্রহ অনুযায়ী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি দেশের বেকারত্ব কমাতে ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য পরম পরামর্শ:
পড়াশোনা চালিয়ে যান: পরীক্ষার ফল খারাপ হলেও হতাশ না হয়ে অবিলম্বে দুর্বল বিষয়গুলোতে জোর প্রস্তুতি শুরু করুন।
দক্ষতা বৃদ্ধিতে মন দিন: প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ ও নতুন কোনো ভাষায় দক্ষতা অর্জনের দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
এনএন/ ১১ অক্টোবর ২০২৬







