শিক্ষা

রাত ১টায় সোজা ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী!—বইয়ের মান দেখতে রাজধানীজুড়ে এহছানুল হক মিলনের সারপ্রাইজ ভিজিট

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর – শহরের অধিকাংশ মানুষ যখন রাতের ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই প্রেসের খটখট শব্দ আর ছাপার কালির তীব্র সুবাসের মাঝে হাজির স্বয়ং শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যবই নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে তো? নাকি নিম্নমানের কাগজ ও ছাপার ভুল নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠবে? ঠিক এই অনিশ্চয়তা কাটাতে এবং শতভাগ মান নিশ্চিত করতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর রাজধানীর ছয়টি প্রেস পরিদর্শনে নামেন মন্ত্রী। গভীর রাতে মন্ত্রীর এমন ঝটিকা অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষাঙ্গন ও নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তুমুল তোলপাড়।

গভীর রাতের অ্যাকশন ও স্পট চেক

রাত ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এই ঝটিকা অভিযানের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রেসে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী ড. মিলন কেবল আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনেই ক্ষান্ত হননি; তিনি নিজেই সরাসরি বইয়ের গাইড লাইন থেকে নমুনা বই বের করে কাগজের জিএসএম, বাইন্ডিংয়ের শক্তি এবং ছাপার স্পষ্টতা খতিয়ে দেখেন। নতুন বছরের প্রথম দিনেই যেন কোনো অবস্থাতেই ত্রুটিপূর্ণ বা নিম্নমানের বই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে না যায়—সে বিষয়ে প্রেস মালিকদের কড়া বার্তা দেন তিনি।

৩০ কোটি ৯২ লাখ বইয়ের মেগা মিশন

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ১ জানুয়ারির ‘বই উৎসব’-কে সামনে রেখে মহা ধুমধামে চলছে বই ছাপানোর কাজ।

  • মোট লক্ষ্যমাত্রা: ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই।
  • প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি।
  • ইবতেদায়ি (১ম-৫ম): ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি।
  • মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ-৯ম): প্রায় ১৮ কোটি কপি (যার মধ্যে শুধুই নবম শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখের বেশি)।
  • বিশেষ চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ৯,০০৪ কপি ব্রেইল বই।

পুরো এই প্রকাণ্ড শিক্ষা-যজ্ঞে সরকারের অর্থ খরচ হচ্ছে ১,৮ ৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩ ৯ হাজার ৩২৮ টাকা।

২০২৭-এর নতুন সিলেবাস ও চমক

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে শুধু নতুন বই-ই নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আনন্দ বাড়াতে যুক্ত হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন কিছু বিষয়:

  • ৪র্থ শ্রেণি: স্থান পাচ্ছে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’।
  • ৬ষ্ঠ শ্রেণি: যুক্ত হচ্ছে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’।

১ জানুয়ারি কি মিলবে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ?

এনসিটিবির সদস্য (টেক্সট) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, প্রেসগুলোতে কাজ পুরোদমে এগোচ্ছে। সময়মতো তো বটেই, বরং নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশের প্রতিটি প্রান্তের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সব বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত। ১ জানুয়ারি বছরের প্রথম দিনেই যেন সব শিক্ষার্থী নতুন সুবাসের বই হাতে বাড়ি ফিরতে পারে, সে বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ নিশ্চিত।

মন্ত্রীর এই আকস্মিক মধ্যরাতের তদারকি এবং এনসিটিবির এমন আগাম প্রস্তুতি সত্যি সত্যি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় থাকলে, নতুন বছরের শুরুটা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার হতে যাচ্ছে—তা বলাই বাহুল্য।

এনএন/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language