উত্তর আমেরিকা

হরমুজ প্রণালি খোলার ইরানের প্রস্তাবে তাড়াহুড়ো নেই ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২৬ সেপ্টেম্বর- ইরানের দেওয়া সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার প্রস্তাবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেওয়ার কোনো তাড়া নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

মার্কিন কর্মকর্তারা আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, তেহরানের এই প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটন এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও তেলের দাম কমে আসা ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও একই সঙ্গে তিনি দেখাতে চাইছেন, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণে তিনি কোনো ধরনের তাড়াহুড়োর মধ্যে নেই।

কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল-জাজিরাকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চয়ই তেল ও পেট্রলের দাম কমে আসুক—এটি চাইবেন। তবে একই সঙ্গে তিনি দেখাতে চান যে, এ বিষয়ে তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না।”

মাসগ্রেভের মতে, যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে যুক্তরাষ্ট্র যেসব সুবিধা পেয়েছে, সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে—এমন কোনো শর্তে ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করতে চাইবেন না। অর্থাৎ, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন এমন একটি অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে, যাতে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে পাওয়া সুবিধাগুলো আলোচনার টেবিলে হারিয়ে না যায়।

সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ইরানের এই প্রস্তাবকে শুধু অর্থনৈতিক চাপের ফল হিসেবে দেখছে না ওয়াশিংটন। মাসগ্রেভের বিশ্লেষণে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলে বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চেয়ে তা চালিয়ে যাওয়ার ওপরই সেখানে বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের সমাধান স্থগিত রাখা এবং লেবানন থেকে সরে না আসার বিষয়েও ইসরায়েলি রাজনীতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

মাসগ্রেভের ভাষায়, “যদি মানুষ মনে করে যে অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান আসলে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, তাহলে ওয়াশিংটনের কাছে এর অর্থ হতে পারে—চাপ কমানোর বদলে এখন আরও জোরালোভাবে চাপ প্রয়োগের সময় এসেছে।”

অর্থাৎ, ইরানের অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি সংকটকে আলোচনার সুযোগ হিসেবে দেখার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তেহরানের ওপর আরও চাপ বাড়ানোর কারণ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল ও জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

ফলে একদিকে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অন্যদিকে ইরানের কাছ থেকে আরও ছাড় আদায়—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগোতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ তাই হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং চলমান যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এস এম/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language