জাতিসংঘে ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি প্রশ্নে উত্তপ্ত পরিবেশ

দিল্লি, ২৬ সেপ্টেম্বর- স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক উত্তেজনায় ভরা। সম্প্রতি নানা হামলা-পাল্টা হামলার কারণে সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শুধু যুদ্ধের মাঠেই নয়, কূটনীতির টেবিলেও উত্তেজনা রয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন আয়োজনেও সেই উত্তেজনার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
গত বুধবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা বা সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার বদলে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের অর্থনৈতিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রবেশের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনারা কবে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবেন?’
পরে জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে বের হওয়ার সময় শরিফকে আবারও প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনারা কবে লস্কর-ই-তৈয়বা প্রধান হাফিজ সাইদকে বিচারের মুখোমুখি করবেন?’ দুইবারই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ার পর পাকিস্তান এবার পাল্টা প্রশ্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের একটি সাইডলাইনের আয়োজনে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে জানতে চান, ‘ভারত সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করবে?’
তবে জয়শঙ্কর ওই পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন করেন। ওই সাংবাদিকের এমন উসকানিমূলক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’ এরপর পাকিস্তানি সাংবাদিককে আর কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ না দিয়ে তিনি এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরা কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে ওই সাংবাদিক তখনও তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে নানা মহলে পাকিস্তানকে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সেদিক থেকে নজর ঘোরাতে এবং ভারতকেও একই পাল্লায় মাপতেই পাকিস্তানি সাংবাদিক এই উসকানিমূলক ও অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করেছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এস এম/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







