২০২৮ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এখনই তৎপর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা

ওয়াশিংটন, ২৪ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। ক্যালেন্ডারে এখন ২০২৬ সাল হলেও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আগাম তৎপরতা শুরু হয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষে কে তার উত্তরসূরি হবেন এবং হোয়াইট হাউসের পরবর্তী বাসিন্দা কে হবেন, তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান—দুই দলেই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।
সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা নিজ দলের প্রার্থীদের সমর্থনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালান। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। প্রাথমিক বাছাইপর্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই নিয়মিত সফর করছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি তারা ভোটারদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছেন, নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠন শক্ত করছেন এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক জোট গড়ার ভিত্তি তৈরি করছেন। ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি সহজে স্বীকার করতে না চাইলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, তার ক্ষমতায় থাকার সময় আর মাত্র আড়াই বছর। তার এই মন্তব্য ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক শিবিরে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পর নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সম্প্রতি সুইং স্টেট হিসেবে পরিচিত মিশিগান সফর করে দলের সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের পক্ষে সমর্থন চান। ২০২৪ সালে হারানো রাজ্যগুলোতে নিজের অবস্থান আবারও শক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের তরুণ ও প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নিজের প্রভাব দ্রুত বাড়াচ্ছেন। প্রগতিশীল রাজনীতির শীর্ষ নেতা বার্নি স্যান্ডার্সের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাওয়া ওকাসিও-কর্টেজ সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে জীবনের বড় সুযোগগুলো একবারই আসে। তবে তার নারী ও লাতিনা পরিচয় নিয়েও নির্বাচনী রাজনীতিতে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক দলের আরও কয়েকজন গভর্নরও এরই মধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বাড়াতে শুরু করেছেন। পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নীতির পক্ষে কথা বলছেন এবং এ বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের সরাসরি সমালোচনা করছেন। কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার জাতীয় পরিচিতি বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ‘গো অ্যান্ড ডু লাইকওয়াইজ: হাউ উই হিল অ্যা ব্রোকেন কান্ট্রি’ নামে একটি বই প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন। গ্রামীণ ও ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছানোর বার্তা দিচ্ছেন তিনি। ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি সম্প্রতি ব্যাপক ওজন কমিয়েও আলোচনায় এসেছেন। এ ছাড়া জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ এবং আরিজোনার সিনেটর মার্ক কেলির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান শিবিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে বের হয়ে নিজেদের স্বাধীন অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে এই দলের সবচেয়ে আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য আইওয়া সফর করেছেন। তবে মাত্র দুই বছর সিনেটর থাকার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়া ভ্যান্সের জন্য ট্রাম্পের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা এবং একই সঙ্গে নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজও প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন এবং আবার নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য তালিকায় আরও রয়েছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট, ফ্লোরিডার বিদায়ী গভর্নর রুন ডিস্যান্টিস এবং সিনেটর রিক স্কট। অবাধ বাণিজ্য ও শুল্কবিরোধী অবস্থানের প্রতিনিধি হিসেবে কেনটাকির সিনেটর র্যান্ড পলও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাকে ৫০-৫০ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে অতীতের মতো এবারও এই তালিকার বাইরে থেকে নতুন কোনো পরিচিত বা চমকপ্রদ মুখ সামনে আসতে পারে।
২০২৮ সালের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করবে, কারণ দুই দলকেই নতুন নেতৃত্ব সামনে আনতে হবে। রিপাবলিকানদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, নাকি প্রচলিত রক্ষণশীল রাজনীতির দিকে ফিরবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে এমন একজন নেতৃত্ব খুঁজে নিতে হবে, যিনি দলের প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি—দুই ধারার মধ্যে সমন্বয় করতে সক্ষম হবেন।
এস এম/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







