উত্তর আমেরিকা

মার্কিনদের দ্রুত ইরান ছাড়ার কড়া নির্দেশ, মুখোমুখি সংঘাতের প্রহর গুনছে ট্রাম্প ও তেহরান

ওয়াশিংটন, ২১ সেপ্টেম্বর – মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সামরিক সংঘাত ও বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরম শিখরে পৌঁছেছে। সার্বিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ও সুরক্ষার ঝুঁকির কথা বিবেচনায় এনে ইরানে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস। একই সঙ্গে কোনো কারণেই ইরান ভ্রমণ না করার জন্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কড়া সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, তড়িঘড়ি করে ক্যাম্প ডেভিড ছেড়ে ওয়াশিংটনে প্রত্যাবর্তন এবং ইরানের পাল্টা সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতির খবরে পুরো বিশ্ব এখন থমথমে।

জরুরি নিরাপত্তাবার্তা: ভার্চ্যুয়াল দূতাবাসের কড়া নির্দেশ

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ভার্চ্যুয়াল দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়:

অবিলম্বে ইরান ত্যাগ: মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো মুহূর্তে অঘোষিত সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের দেরি না করে দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হুথি হামলার আশঙ্কাজনক প্রভাব: ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছে, যা আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলছে।

বৈশ্বিক মার্কিন স্বার্থে হুমকি: মার্কিন ডিপ্লোম্যাটিক মিশন, নাগরিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ইরান বা তার অনুগত গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের “উড়িয়ে দেওয়ার” হুমকি ও ক্যাম্প ডেভিড ছাড়ার রহস্য

উত্তেজনার পারদ হু হু করে বাড়ার নেপথ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউজের সাম্প্রতিক কড়া অবস্থান ও রহস্যময় পদক্ষেপ:

পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার” হুঁশিয়ারি: ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মার্কিন স্বার্থে আঘাত এলে ইরানকে “পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার” খোলাখুলি হুমকি দেন।

আকস্মিক ওয়াশিংটনে ফেরা: নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিড রিসোর্ট ছেড়ে তড়িঘড়ি হোয়াইট হাউজে ফিরে যান ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি ইঙ্গিত দেন, সামনে “খুব বড় কিছু” ঘটতে যাচ্ছে এবং তেহরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ প্রস্তুতি ও হরমুজ প্রণালীতে অবরুদ্ধ পরিবেশ

মার্কিন চাপের মুখে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে পাল্টা সংঘাতের পথেই হাঁটছে ইরান:

পাল্টা হামলার চরম হুঁশিয়ারি: ইরানের সামরিক কমান্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন কিংবা যৌথ বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি, মিত্রদেশ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকায় একযোগে সর্বাত্মক হামলা চালানো হবে।

হরমুজ প্রণালী ও মার্কিন নৌ-অবরোধ: ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ জোরালো করার বিপরীতে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম মূল চ্যানেল ‘হরমুজ প্রণালী’-তে নিজেদের কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে তেহরান।

কাতার মারফত শর্তের বার্তা: নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারসহ বেশ কয়েকটি শর্ত সংবলিত বার্তা পাঠিয়েছে ইরান। তবে শর্ত মানা না হলে আলোচনার দরজা বন্ধ করে যুদ্ধের ময়দানেই সিদ্ধান্ত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি নীতিনির্ধারকরা।

বিশ্বরাজনীতিতে তোলপাড়: চোখ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশন শুরুর ঠিক মুখেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তাপ বিশ্বনেতাদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়ে মধ্যপ্রাচ্য কি এক নতুন রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে জোর চর্চা চলছে।

এনএন/ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language